Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাতের আঁধারে ব্রিজে রডের বদলে ‘বাঁশঢালাই’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৩২

টাঙ্গাইলে রাতের আঁধারে ব্রিজে রডের বদলে ‘বাঁশঢালাই’। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইল: জেলার বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এরকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বাসাইল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতের আঁধারে করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে তারা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। রাতে এক পর্যায়ে ব্রিজের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, বাসাইল উপজেলাধীন বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘে্যর গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে এই ব্রিজটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে। আর শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। কিন্তু পরে এই ব্রিজের কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে ব্রিজটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, ‘আমাদের এই মাইজখাড়ার ভেতরে যে ব্রিজটি হচ্ছে, সেখানে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, এই টাকাগুলো তাহলে গেল কই? আর এই ঠিকাদারের সঙ্গে আরও হয়তো স্থানীয় মানুষ জড়িত আছে। নয়তো ঠিকাদার তো এই জায়গায় এসে এভাবে সাহস পাবে না বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার। এর সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।’

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, ব্রিজটির কাজ করার কথা দিনে, তারা কাজ করছে রাতে। রাতে এলাকার ছেলেরা দেখে ব্রিজে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিতাছে। কিছু বালি-সিমেন্ট ও বাঁশ দিয়ে শুধু ঢালাই দিতাছে।’

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই গ্যাপগুলোর ভেতরে খোলা। ভেতর থেকে শাটার বের করার সুযোগ নাই। বড়গুলোর ভেতরে শাটার দিয়ে কাজ করেছি। আর ওইগুলো এই গ্যাপ দিয়ে বের করেছি। আর এইটা বাঁশ দিয়ে স্লাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের একটা বস্তা দিয়ে খাঁচা দিয়ে আমরা ঢালাই করেছি।’

বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দফতর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দফতরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।’

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর