সিলেট: ঝড়, বন্যা, খরা, সিলেটের নিত্যসঙ্গী। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাতও প্রতিবছর অসংখ্য মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে নীরবে। বজ্রপাতের ভয়ংকর ঝুঁকি কমানো ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওর অঞ্চল এলাকা বড়লেখায় পাঁচ হাজার তালগাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও সমাজ সেবক আতাউর রহমান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজারের হাওর অধ্যুষিত বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত সোনাতলা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সোনাই নদীর দুই পাশে অর্ধশতাধিক তাল গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।
‘বড়লেখা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির’ ব্যানারে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়। এ কর্মসূচির আওতায় বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর অঞ্চলে ধাপে ধাপে পাঁচ হাজার তালগাছের চারা রোপণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্যোক্তা মুহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, প্রতি বছরে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে— বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ অত্যন্ত উপকারী। প্রতি বছর আমাদের হাকালুকি হাওরে বজ্রপাতে কৃষক, মৎস্যজীবী মারা যাচ্ছে। চলতি বছরেও হাকালুকি হাওরে মাছ শিকার করতে গিয়ে চারজন জেলে বজ্রপাতে মারা গেছেন। এই ঘটনাটি আমাকে প্রচণ্ড ভাবিয়ে তোলে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ‘দেশ থেকে তালগাছ ও বড় বড় শক্তিশালী গাছগুলো অনেকটাই হারিয়ে যাওয়া। এসব বিষয়কে সামনে নিয়ে আমি পাঁচ হাজার তাল গাছ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
চারা রোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেখানে একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার হাকালুকি হাওর বেষ্টিত বিভিন্ন এলাকায় তালগাছের চারা রোপণ কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বড়লেখা সদর ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ফয়সল আলম স্বপন, বড়ময়দান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সজল সরকার, নূরজাহান হাসপাতালের সাবেক জিএম মুহাঃ জিয়াউর রহমান, বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব রক্ষক উজ্জ্বল সরকার ও সামাজিক সংগঠন আওয়ার ফ্যামেলির উপদেষ্টা আব্দুল আলিম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্যা সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের (এসএসএটিএএফ) দেয়া তথ্যনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলায় হাওরের পাশাপাশি চা-বাগানের খোলা জায়গায় গত ৫ বছরে ১৮ জন বজ্রপাতে মারা গেছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ কৃষক, জেলে, মাঝি, শ্রমজীবী মানুষ যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন তারা বজ্রপাতে প্রাণ হারান।