Thursday 24 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

যশোরে ভ্যানচালক ইখলাস হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ২

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৩৩

অভিযুক্ত দুই আসামি।

যশোর: যশোরের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদ থেকে নিখোজের তিনদিন পর ইখলাস (২৯) নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইখলাসের ভ্যান ছিনতাই করতে তাকে চেতনানাশক খাইয়ে হত্যা করে মরদেহ কপোতাক্ষ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে গ্রেফতার হওয়া দুইজন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারি পুলিশ সুপার (নাভারণ সার্কেল) মো. আরিফ হোসেন।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. মেহেদী হাসান এবং বিষহরি গ্রামের মোস্তফা কামালের ছেলে আশরাফুল আলম। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইখলাসের ভ্যানটিও উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ইখলাস চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের সানাউল হোসেনের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

সহকারী পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইখলাস ভ্যান নিয়ে ভাড়ায় বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় মারুফ মল্লিকের ব্রয়লার ফার্মের পেছনে কপোতাক্ষ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ইখলাসের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে ইখলাসের বাবা বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।’

তিনি জানান, মামলার তদন্তে তার নেতৃত্বে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নি.) মোল্লা রেজাউল করিমসহ পুলিশের একটি দল কাজ শুরু করেন। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে মেহেদী হাসানকে (২৯) সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুর এলাকা থেকে আশরাফুল আলম নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে দু’জনই ইখলাসকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে ইখলাসের ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, ভ্যানটি ছিনতাই করে বিক্রির উদ্দেশ্যে ইখলাসকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে পান করানো হয়। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে এবং পানিতে চুবিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত দু’জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর