Saturday 26 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গোপালগঞ্জে শৈলদাহ নদীতে বিলীন হচ্ছে সড়ক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:০৪

নদীভাঙনের চিত্র।

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শৈলদাহ নদীর তিনটি পয়েন্টের ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়ক বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ১০ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

বালুর বস্তা ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করে যাচ্ছে। তবে স্থানীয়রা সম্পদ রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়নবোর্ডের তথ্যমতে, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত শৈলদাহ নদীর আয়তন আট কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৩৪০ মিটার। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ নদীর গতিপথ আকাবাঁকা ও ভাঙনপ্রবণ হিসেবে পরিচিত বলে পানি উন্নয়নবোর্ড উল্লেখ করেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ নদীর স্রোত তীব্র আকার ধারণ করেছে। আছড়ে পড়ছে ডুমরিয়া ইউনিয়নের সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোটো ডুমরিয়া পয়েন্টে। নদীভাঙনে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ লেবুতলা-ডুমরিয়া সড়কের ওই স্থানগুলো বিলীন হয়ে যাচ্ছে । চলাচলের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তারা ৯-১০ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ৫০ বসতবাড়ি, ইউনিয়ন পানি সরবরাহের ট্যাংক, ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

বিজ্ঞাপন

সড়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা শামীম মোল্লা বলেন, ‘নদীভাঙনে আমার বাড়িঘর ও জমি বিলীন হয়েছে। এখন রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে সড়াবাড়ী, চিথলিয়া ও ছোটো ডুমরিয়া গ্রামের ৫০ বসতবাড়ি, ফসলি জমি, ইউনিয়ন পানি সরবরাহের পানির ট্যাংক, স্কুলসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। এতে হবে না, স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে।’

ভ্যানচালক আনন্দ কীর্ত্তনীয়া বলেন, ‘রাস্তা কোথাও ভেঙে গেছে, কোথাও দেবে গেছে। এখানে ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হয়। কোনো কোনো জায়গার অবস্থা এত খারাপ যে, যাত্রী নামিয়ে দিতে হয়। টায়ার লিক হয়। চেইন ছিড়ে যায়। বিয়ারিং ও মোটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১০ কিলোমিটার ঘুরে ডুমরিয়া-পাকুরতিয়া গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। নদীভাঙন প্রতিরোধ করে সড়ক সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

চিথলিয়া গ্রামের গৃহবধূ বাসন্তী মিস্ত্রী বলেন, ‘ভাঙনে আমাদের বসতঘর অনেক আগেই চলে গেছে। এখন জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। সরকার বালির বস্তা ফেলছে। কিন্তু ভাঙন থামছে না। সম্পত্তি রক্ষায় আমরা ভাঙন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকারিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘শৈলদাহ নদীর টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমরিয়া ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টে ১ হাজার ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে নদীভাঙন রয়েছে। সেখানে বালুর বস্তা ডাম্পিং করে অস্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে আমরা কাজ করছি। সাউথ ইস্ট প্রকল্পের আওতায় শৈলদাহ নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর