সিলেট: সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সিলেট শিক্ষাবোর্ডে রীতিমত বিপর্যয় নেমে এসেছে। বোর্ডের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার মাত্র ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেকই এবার উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা মানবিক বিভাগের, যেখানে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। গত ২০ বছরের মধ্যে এটিই সিলেট শিক্ষা বোর্ডে সর্বনিম্ন পাসের হার।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন সই করা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল পরিসংখ্যানে এই চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগে পাসের হারে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে।
মানবিক বিভাগ
এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি ৪৯ হাজার ৩৫৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ২২ হাজার ৮৪৮ জন এবং ফেল করেছেন ২৬ হাজার ৫১১ জন। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। পরীক্ষার্থী ও অকৃতকার্য—উভয় দিক থেকেই এ বিভাগে সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি।
বিজ্ঞান বিভাগ
তুলনামূলকভাবে এ বিভাগে ফল কিছুটা ভালো হয়েছে। ১৪ হাজার ৩৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯ হাজার ৮৩৮ জন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা মানবিক বিভাগের চেয়ে ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ
এ বিভাগের অবস্থাও বেশ হতাশাজনক। ৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৯১১ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় ২০ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম।
সব বিভাগ মিলিয়ে এ বছর সিলেট বোর্ডে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে পাস করেছেন ৩৬ হাজার ৫৯৭ জন।
সামগ্রিক ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা সামান্য এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, আর ছাত্রীদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। তবে এর উল্টো চিত্র দেখা গেছে বিজ্ঞান বিভাগে। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রীদের (৬৭.৪০%) তুলনায় ছাত্রদের (৭০.৬৪%) পাসের হার বেশি। এইচএসসি পরীক্ষার এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন জানান, পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছেন এবং কোন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ফলাফলের এই অবনতির কারণ চিহ্নিত করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। গতবছর জিপিএ-৫ পান ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমেছে। বোর্ডের তথ্যমতে, এবার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৭১ হাজার ৮৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ১৭২ জন।