চট্টগ্রাম: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক গাড়িচালক মো. তাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
দুদকের পিপি মোকাররম হোসেন বলেন, মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। রায়ে গাড়িচালক মো. তাজুল ইসলামকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের ৫০ শতাংশ হিসেবে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়, যা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
একই অপরাধের সহযোগী হিসেবে তার স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকেও ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্জিত অর্থদণ্ডের সমপরিমাণ ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রের তথ্যমতে, আসামি তাজুল ইসলাম ওয়াসা সংস্থায় কর্মরত থাকাকালে দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অবৈধ অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে স্ত্রী খাইরুন্নেছার নামে জমি ক্রয় ও বহুতল ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে এই অর্থ বৈধ দেখানোর জন্য স্ত্রী খাইরুন্নেছা নিজের নামে আয়কর নথি খুলে মিথ্যা তথ্য প্রদর্শন করেন।
পাশাপাশি দুদকের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের প্রাথমিক প্রমাণ মেলে।
তদন্ত শেষে দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় আদালতে চার্জশিট দেয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হয়ে সোমবার চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়।