Thursday 24 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ছাত্রলীগই ভালো ছিল, ধরে ধরে পিটাইতো: জবি হল প্রভোস্ট

জবি করেসপন্ডেন্ট
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৮:৩৫

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আঞ্জুমান আরা। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের লাইব্রেরি থেকে নিয়মিত বই চুরির ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের জেরে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আঞ্জুমান আরা সাংবাদিক ফাতেমা আলীকে হুমকি ও হলুদ সাংবাদিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। এসময় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,  ‘আগে ছাত্রলীগ ছিল না? তারাই ভালো ছিল। ধরে ধরে পিটাইতো ঐটাই ঠিক ছিল।’

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) ওই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদক এ হুমকি দেন।

দেশ রূপান্তরের জাবি প্রতিনিধি ফাতেমা আলীসহ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী সিসিটিভির ফুটেজ দেখার কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমরা দিনরাত খেটে মরছি। দেখার কেউ নাই। এতো তাড়াহুড়া কিসের? সে দৌড়াইয়া নিউজ করে দিছে। হলে কিছু মেয়ে আছে সবকিছু এখনই চায়। তারা কি হয়ে গেছে?’

বিজ্ঞাপন

এসময় সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিককে উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ও আমার হলের শৃঙ্খলা কমিটিতে আসবে। নিউজের জন্য জবাবদিহি করবে। ওই আবার নিউজ করবে। এতো সময় নাই আমার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার।’

এর আগে, হলের লাইব্রেরি থেকে বই চুরির ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দৈনিক দেশ রূপান্তর এর অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুদ্ধ হয়ে দেশ রূপান্তরের জবি প্রতিনিধি ফাতেমা আলীকে হলুদ সাংবাদিক আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে কমেন্ট করেন তিনি। পরে সংবাদ প্রকাশের জেরে রাত ১ টার দিকে মেসেজ দিয়ে হলের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ডাকা হয় তাকে। এছাড়া ওই সংবাদিককে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন তিনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফাতেমা আলী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের  বই চুরির ঘটনা নিয়ে হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেকশন অফিসারের কাছে সিসিটিভির ফুটেজ দেখার জন্য গেলে তিনি দেখাতে পারবেন না বলে জানান। এ বিষয়ে  প্রভোস্টের সঙ্গে কথা বলে জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে হয়ে বলেন ফুটেজ দেখা আমার কাজ না। বই কি আমি পাহাড়া দিব। সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি ফেসবুকের গ্রুপে কমেন্ট করে আমার বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেবেন বলে হুমকি দেন। সাংবাদিক হিসেবে সত্য তুলে ধরলে কি আমাকে এমন হুমকি শুনতে হবে?’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক বললেন, ‘আমি আরেকজন সংবাদকর্মীর কাছে বিষয়টি শুনেছি। উপাচার্য মহোদয়কে বিষয়টি জানিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি বই চুরির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। তবে সাংবাদিকের সঙ্গে এরূপ আচরনের ঘটনা সম্পর্কে এখনও কিছু জানিনা। আমি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে দেখছি। যদি সত্যিই এরকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

সারাবাংলা/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর