স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সৃজনশীল চিন্তাকে উৎসাহিত করতে বিকাশ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বইপড়া কর্মসূচির সম্প্রসারণ করা হয়েছে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায়। এ কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪০ হাজার বই বিতরণ করা হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় বিকাশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বাগেরহাট জেলার বাগেরহাট আমলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, বাগেরহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাগেরহাট কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ; এবং সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা প্রাণনাথ (পিএন) মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রসুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সাতক্ষীরা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়।
বাগেরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তন ও সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে বিকাশ ও আলোকিত মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মো. বাতেন এবং সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর নিজ নিজ জেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন। এ সময় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান ও বিকাশের রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সায়মা আহসানসহ অন্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বইপড়া কার্যক্রমকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সমসাময়িক বিষয়ের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। দুটি অনুষ্ঠানে মোট প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, কল্পনাশক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ তৈরির মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে সেই লক্ষ্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন দেশজুড়ে বইপড়া কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। এই উদ্দেশ্যকে আরও প্রসারিত ও কার্যকরী করতে ২০১৪ সাল থেকে বইপড়া কর্মসূচির সাথে যুক্ত আছে বিকাশ। এই কর্মসূচির আওতায় দেশজুড়ে এপর্যন্ত ৪ লাখের বেশি বই বিতরণ করেছে যার মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩২ লাখের বেশি পাঠক উপকৃত হয়েছে।