Thursday 05 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে হোম ইকোনমিক্স কলেজে বিক্ষোভ, কক্ষে তালা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৭:৫৪ | আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৭:৫৫

বিক্ষোভ।

ঢাকা: অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর হোম ইকোনমিক্স কলেজে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন তারা। অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহরুন্নেসার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, আবাসিক হলের নিরাপত্তায় অবহেলা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে গেলেও কোনো সমাধান পাননি তারা। প্রায় দেড় মাস ধরে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষের সাড়া না পাওয়ায় পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে অযৌক্তিকভাবে অর্থ দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনকারীরা জানান, কলেজের আবাসিক হলের পাশেই অধ্যক্ষের বাসভবন। সেখানে বহিরাগতদের ভাড়া দেওয়ায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হলের নিরাপত্তা, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং প্রবেশের সময়সীমা নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ।

এ ছাড়া হলের খাবারের মান নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। তাদের অভিযোগ, একবার হলের খাবার খেয়ে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং খাবার পছন্দ না হলে না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরেকটি অভিযোগ, সম্প্রতি আয়োজিত হল পার্টির জন্য অধ্যক্ষের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। তবে সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন সমস্যায় অনুষ্ঠান শুরু ও শেষ করতে দেরি হয়। এতে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত প্রায় চার ঘণ্টা অডিটোরিয়াম ব্যবহার করা হয়। এ কারণে দুই শিক্ষার্থীর কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, মাত্র চার-পাঁচ ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিল হিসেবে এত টাকা দাবি কতটা যৌক্তিক।

আন্দোলনকারীরা আরও জানান, এর আগে দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীর হলের আসন বাতিল করা হয়েছে এবং ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গেলে বিভাগ ও রোল নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। পরে বিভাগ থেকে তাদের হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, হলের ফি বাড়ানো হলেও নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। নিরাপত্তার কথা বলে হলের গেট বন্ধ রাখা হলেও রাতে বাইরে থেকে প্রবেশের প্রয়োজন হলে শিক্ষক গেট ব্যবহার করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অপমানজনক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। হলের অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হলে তা কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তারও জবাব চান তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, এসব সমস্যা নিয়ে একাধিকবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই এখন তাদের এক দফা দাবি—অধ্যক্ষের পদত্যাগ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।