ঢাকা: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আজীবন সদস্য ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ বাচ্চু আর নেই।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শেষ তিনি নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। আব্দুল লতিফ বাচ্চুর শ্যালক দেশের আরেক প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন বুলু মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আনোয়ার হোসেন বুলু জানান, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন আব্দুল লতিফ বাচ্চু। উন্নত চিকিৎসার জন্য গতবছরের জুলাইয়ে তাকে দেশের বাইরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দেশে আসার পর সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। আজ সন্ধ্যায় তার শরীরে একটি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, ‘তার ফুসফুস সংক্রমিত হয়। এর বাইরে ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতাও ছিল। সকাল থেকে তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। এরপর দ্রুত ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
জানা গেছে, আব্দুল লতিফ বাচ্চুর তিন ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী, তাদের দেশে ফেরা পর্যন্ত বাবার মরদেহ হিমঘরে রাখা হবে। তাদের ফেরার পর দাফনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
আব্দুল লতিফ বাচ্চু ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ‘আলোর পিপাসা’, ‘আগন্তুক’, ‘দর্পচূর্ণ’ সিনেমায় বিখ্যাত চিত্রগ্রাহক সাধন রায়ের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে ‘রূপকুমারী’ সিনেমায় একক ক্যারিয়ার শুরু করেন। স্বাধীনতার পর চিত্রা জহিরের প্রযোজনা ও কাজী জহিরের পরিচালনায় কাজ করেন ‘অবুঝ মন’ সিনেমায়।
এরপর ‘বলবান’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালনায় নাম লেখান। ‘যাদুর বাঁশি’ (বাচসাস), ‘দ্বীপকন্যা’, ‘নতুন বউ’, ‘মি. মাওলা’, ‘প্রতারক’ তার উল্লেখযোগ্য সিনেমা। আব্দুল লতিফ বাচ্চু ৬৫টি চলচ্চিত্রে পূর্ণাঙ্গ চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন। আর পরিচালনা করেছেন নয়টির মতো চলচ্চিত্র।
আব্দুল লতিফ বাচ্চু সরকারি সেন্সর বোর্ড ও জুরি বোর্ডে সততা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ জীবনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) ছাড়াও অর্জন করেছেন চ্যানেল আই কর্তৃক প্রবর্তিত ‘ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কার।