ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন তিনি। যার পায়ের ছন্দে আর অ্যাকশন হিরোর কারিশমায় বুঁদ হয়ে থাকতো তিরাশি থেকে নব্বইয়ের দশকের দর্শক। তিনি আর কেউ নন, আমাদের সবার প্রিয় চিত্রনায়ক ও প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উত্তরায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান এক আবেগঘন পোস্টে তার প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
জাভেদের জীবনের গল্প কোনো সিনেমার চেয়ে কম নয়। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ভাগ্য আর অভিনয়ের নেশা তাকে টেনে এনেছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। ১৯৬৪ সালে উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে বড় পর্দায় তার যাত্রা শুরু হলেও মূলত নৃত্য পরিচালনার হাত ধরেই চলচ্চিত্র জগতে তার অভিষেক।
জাভেদ কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী নৃত্য পরিচালক। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তিনি ছিলেন ঢাকাই সিনেমার অপরিহার্য নাম। তার ক্যারিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে রয়েছে, প্রায় ২০০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত ‘নিশান’ সিনেমাটি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে আছে। বাংলা সিনেমায় পুরুষের নাচের যে নিজস্ব ধরন, তাতে তিনি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন।১৯৮৪ সালে তিনি চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস থেকে ‘জাভেদ’ হয়ে ওঠা এই শিল্পী জীবনভর দর্শকদের বিনোদন বিলিয়েছেন। ‘নিশান’, ‘নাজমা’, ‘শাহজাদা’র মতো অসংখ্য সুপারহিট ছবির মাধ্যমে তিনি জয় করেছিলেন কোটি মানুষের হৃদয়। আজ তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি ‘সুবর্ণ সময়’ যেন চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল।
পেশোয়ার থেকে ঢাকা; হাজার মাইলের এই পথচলা শেষে তিনি রয়ে গেলেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে, তার সৃষ্টি আর শৈল্পিক কাজের মধ্য দিয়ে।তিনি শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ঢাকাই সিনেমার নাচের জাদুকর। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।