একাত্তরের ২৫ মার্চ, বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালিমালিপ্ত ও বিভীষিকাময় অধ্যায়। সেই ভয়াল কালরাতের স্মৃতি আজও প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে ক্ষত হয়ে আছে। এই জেনোসাইড দিবস স্মরণে জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মায়ের জীবনের এক শিহরিত করে তোলা স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। তার লেখায় ফুটে উঠেছে যুদ্ধের ঠিক আগের সেই থমথমে মুহূর্ত এবং এক শিল্পমনা পরিবারের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ের গল্প।
জয়া জানান, তখন তার মায়ের বয়স ছিল অল্প, তিনি গান করতেন। গুণী শিল্পী লাকী আখন্দের তদারকিতে সেদিন রাতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে একটি দেশাত্মবোধক গানের রেকর্ডিংয়ে গিয়েছিলেন জয়ার মা। সঙ্গে ছিলেন লাকী আখন্দ, শম্পা রেজা এবং জয়ার ছোট খালা ও ছোট মামাসহ আরও অনেক সংগীতশিল্পী। গানে গানে যখন দেশপ্রেমের সুর মূর্ছনা ছড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই খবর আসে যে বাইরে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে চলেছে। স্টুডিও থেকে বেরিয়ে জয়ার মা দেখেন পথে পথে পাকিস্তানি মিলিটারির আনাগোনা। সেই গভীর রাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনোমতে একটি স্কুটার খুঁজে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি।
জয়া আহসানের এই পোস্টে উঠে এসেছে ২৫ মার্চের সেই অবিশ্বাস্য গণহত্যার বীভৎসতা। তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের। জয়া মনে করেন, এই জেনোসাইডের স্মৃতি আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, এই নির্মম ত্যাগের ইতিহাস আমাদের অন্তরে জাগ্রত থাকবে। শিল্পীর এই আবেগঘন স্ট্যাটাসটি নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং ভক্তরাও শোক ও শ্রদ্ধার সাথে সেই দিনটির কথা স্মরণ করছেন।