ঈদুল আজহা মানেই একরাশ স্মৃতির হাতছানি। সাধারণ মানুষের মতো শোবিজ তারকারাও এই সময়ে ফিরে যান তাদের ফেলে আসা শৈশব ও কৈশোরের সোনালী দিনগুলোতে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদের কাছেও কোরবানির ঈদ মানেই এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই সব দিনের গল্প বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই তারকা।
ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে গরুর হাটে যাওয়ার সেই আনন্দ ছিল অন্যরকম। বাবার পাশে পাশে পুরো হাট ঘুরে ঘুরে গরু দেখা আর পছন্দের পশুর দরদাম করার মধ্যেই ছিল এক বিশাল উচ্ছ্বাস। সিয়ামের ভাষায়, গরু কেনা শেষ হলে দড়ি ধরে সেটিকে টেনে টেনে বাড়ি ফিরিয়ে আনার মুহূর্তটি ছিল সবচেয়ে বেশি আনন্দের। সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত আজ তার হৃদয়ে গভীর মমতায় গেঁথে আছে।
স্মৃতির আয়নায় তাকালে সিয়ামের মনে পড়ে ছোটবেলার এক অমোঘ ইচ্ছার কথা। তখন তার প্রায়ই মনে হতো, যদি গরু কেনার পুরো টাকাটা বাবাকে তিনি দিতে পারতেন, তবে হয়তো অনেক বেশি ভালো লাগত। সময়ের পরিক্রমায় সেই বাস্তবতা বদলেছে। আজ তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা, কাজের জগতে তার কদরও প্রচুর। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন অনেক আগেই।
উপার্জন শুরু করার পর থেকেই প্রতি ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু কেনার জন্য বাবার হাতে আলাদা করে টাকা তুলে দেন সিয়াম। নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে বাবার পাশে দাঁড়াতে পারার এই অনুভূতিকে তিনি জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবেই দেখেন। এই বিশেষ মুহূর্তটি তাকে এক অদ্ভুত তৃপ্তি দেয়।
তবে এই প্রাপ্তির আনন্দের মাঝেও কোথাও যেন এক টুকরো শূন্যতা ভিড় করে। সিয়ামের মতে, সময়ের ব্যস্ততা আর জীবনের নানা দায়িত্বের ভিড়ে শৈশবের সেই নিখাদ আনন্দগুলো আজ অনেকটাই ম্লান। এখন আর আগের মতো গরুর দড়ি ধরে বাড়ির পথে হাঁটার সেই সরল উচ্ছ্বাস অনুভব করেন না তিনি। তবুও সেই পুরনো স্মৃতিগুলোই প্রতি বছর ঈদ এলে সিয়াম আহমেদকে নতুন করে আবেগপ্রবণ করে তোলে। শৈশবের সেই হারানো দিনগুলোই আজও তার ঈদকে করে তোলে অনন্য ও বিশেষ।