বিশ্বসংগীতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর আমেরিকান মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস বা এএমএ-র ৫২তম আসর বসেছিল বিনোদন দুনিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে। জমকালো এই আয়োজনে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করেছে জনপ্রিয় কোরিয়ান পপ ব্যান্ড বিটিএস। সামরিক পরিষেবার কারণে লম্বা বিরতিতে থাকলেও বিটিএসের জনপ্রিয়তায় যে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি, তা প্রমাণিত হয়েছে বছরের সেরা শিল্পী বা আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার পুরস্কারটি জয়ের মাধ্যমে। এর আগে ২০২১ সালেও এই গৌরবময় খেতাবটি নিজেদের করে নিয়েছিল ব্যান্ডটি।
সেরা শিল্পীর মুকুট জয়ের পাশাপাশি বিটিএস এবার আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার জিতেছে। ব্যান্ডটি ‘সং অব দ্য সামার’ এবং ‘সেরা পুরুষ কে-পপ শিল্পী’র পুরস্কার জিতে এবারের আসরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। সব মিলিয়ে তিনটি ট্রফি নিয়ে বিটিএস আবারও বিশ্বসংগীতের সিংহাসনে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে।
তবে এবারের আয়োজনে বিটিএসের পাশাপাশি তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছে নতুন পপ ব্যান্ড ক্যাটসআই। তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েও তারা বছরের সেরা নবাগত শিল্পী বা নিউ আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার পুরস্কারটি জিতে নিয়েছে। এর বাইরেও সেরা মিউজিক ভিডিও এবং ব্রেকথ্রু পপ আর্টিস্টের পুরস্কার জিতে তারা নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের মন জয় করেছে।
নবাগত বিভাগে পুরস্কার না পেলেও গায়ক সোম্বর তার রক-রকানি পারফরম্যান্স দিয়ে আসর মাতিয়ে রেখেছিলেন। তার ঝুলিতে গেছে তিনটি ট্রফি। ব্যাক টু ফ্রেন্ডস গানের জন্য তিনি সেরা রক বা অল্টারনেটিভ গানের পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া আই বেয়ারলি নো হার ব্যান্ডের জন্য সেরা রক বা অল্টারনেটিভ অ্যালবামের পুরস্কারও নিজের করে নিয়েছেন এই প্রতিভাবান শিল্পী।
অন্যান্যদের মধ্যে ইজেআই, অড্রে নুনা এবং রেই আমি যৌথভাবে বছরের সেরা গানের পুরস্কার ঘরে তুলেছেন। কে-পপ ডেমন হান্টার্স সাউন্ডট্র্যাকের গোল্ডেন গানটি তাদের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল। এএমএ-র নিয়ম অনুযায়ী সশরীরে উপস্থিত না থাকায় মূল মঞ্চে অ্যালবামের পুরস্কার ঘোষণা করা না হলেও, শেষ পর্যন্ত সাবরিনা কার্পেন্টারের ম্যানস বেস্ট ফ্রেন্ড অ্যালবামটি সেরা অ্যালবামের স্বীকৃতি পেয়েছে।
পুরস্কার সংখ্যায় বিটিএস, ক্যাটসআই, সোম্বর এবং সাবরিনা কার্পেন্টারের পাশাপাশি কার্ডি বি, ব্রুনো মার্স ও হান্টার বা এক্স ব্যান্ডের শিল্পীরা তিনটি করে ট্রফি জিতে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন। তবে এবারের আয়োজনে কিছুটা হতাশ হতে হয়েছে পপ কুইন টেইলর সুইফটের ভক্তদের। আটটি মনোনয়ন পেয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। যদিও ৪০টি এএমএ ট্রফি জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পুরস্কারজয়ী হিসেবে তার রেকর্ড এখনো অটুট। অলিভিয়া ডিন, লেডি গাগা ও অ্যালেক্স ওয়ারেন এবার কোনো পুরস্কার পাননি।