Wednesday 27 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পূর্ণ সওয়াব অর্জনে ঈদের দিনের করণীয়

সারাবাংলা ডেস্ক
২৭ মে ২০২৬ ২০:০৫

পবিত্র ঈদুল আজহা কেবল আনন্দের উৎসব নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অশেষ সওয়াব অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিনটিকে যেভাবে অতিবাহিত করতেন, তা অনুসরণ করাই আমাদের জন্য কল্যাণকর। এই আমলগুলো চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের আনন্দকে ইবাদতে রূপান্তর করতে পারি।

আসুন জেনে নেই ঈদুল আজহার দিনের প্রধান সুন্নাত ও করণীয়সমূহ…

প্রত্যুষে শয্যা ত্যাগ ও পবিত্রতা অর্জন

ঈদের দিনের সূচনা হওয়া উচিত ভোরে জাগরণের মাধ্যমে। ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করা এবং সুন্নাত তরিকায় উত্তমরূপে গোসল করে পবিত্র হওয়া এই দিনের প্রথম আমল। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ, যা ঈদের দিন আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান

ঈদের আনন্দ প্রকাশে নিজের সাধ্যের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও মার্জিত পোশাকটি পরিধান করা সুন্নাত। উৎসবের পোশাকটি নতুন হতেই হবে—শরিয়তে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বরং যা আছে তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তমটি বেছে নেওয়াই নিয়ম।

সুগন্ধি ও আতর ব্যবহার

ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পূর্বে সুগন্ধি বা আতর লাগানো সুন্নাত। এটি যেমন সুন্নাত আদায়ের সওয়াব দেয়, তেমনি চারপাশের পরিবেশকে মনোরম ও স্নিগ্ধ করে তোলে।

ঈদের নামাজের পূর্বে অনাহারে থাকা

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মাঝে একটি বড় পার্থক্য হলো খাবারের নিয়মে। ঈদুল আজহার দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে কোনো কিছু না খাওয়া সুন্নাত। মহানবী (সা.) ঈদের সালাত শেষ করে নিজের কোরবানির পশুর গোশত দিয়ে দিনের প্রথম আহার গ্রহণ করতেন।

পদব্রজে ঈদগাহভিমুখী হওয়া

শারীরিক কোনো প্রতিবন্ধকতা বা বড় কোনো দূরত্ব না থাকলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া অধিক সওয়াবের কাজ। আল্লাহর রাসুল (সা.) সাধারণত হেঁটেই ঈদের মাঠের দিকে রওনা হতেন।

উচ্চস্বরে তাকবির ধ্বনি উচ্চারণ

বাড়ি থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছানো পর্যন্ত পথিমধ্যে উচ্চকণ্ঠে তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা সুন্নাত। তাকবিরটি হলো:

‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’

যাতায়াতের পথ পরিবর্তন করা

ঈদগাহে যাওয়ার সময় যে রাস্তা ব্যবহার করা হয়েছে, নামাজ শেষে ফেরার সময় ভিন্ন রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরা একটি বিশেষ সুন্নাত। এর ফলে কিয়ামতের দিন উভয় পথই ইবাদতের সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবে এবং অধিকসংখ্যক মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সুযোগ ঘটবে।

উন্মুক্ত ময়দানে ঈদের সালাত আদায়

আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া মসজিদে ঈদের নামাজ না পড়ে খোলা মাঠে বা ঈদগাহে সমবেত হওয়া সুন্নাত। এতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও বিশালতা প্রকাশ পায়।

পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও দোয়া বিনিময়

ঈদের নামাজ সম্পন্নের পর একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা উচিত।