সোনালী যুগের হলিউড বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধুলো ওড়ানো মরুভূমি, ঘোড়ার খুরের আওয়াজ, আর মাথায় কাউবয় হ্যাট পরা এক দৃঢ়চেতা মানুষের অবয়ব। তিনি জন ওয়েন, যাকে ভালোবেসে বিশ্ববাসী ডাকত ‘দ্য ডিউক’ নামে। ১৯০৭ সালের মে মাসে জন্ম নেওয়া এই অসামান্য অভিনেতা কেবল একজন তারকা ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন আমেরিকান ওয়েস্টার্ন সিনেমার এক জীবন্ত রূপক। লম্বা চওড়া গড়ন, হাঁটার চিরচেনা রাজকীয় ভঙ্গি আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর দিয়ে তিনি পর্দায় এমন এক পুরুষালি ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছিলেন, যা দশকের পর দশক ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল। অ্যাকশন হিরো বা কাউবয় চরিত্রের সংজ্ঞাটাই যেন তিনি একাই বদলে দিয়েছিলেন।
জন ওয়েনের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ১৯৩৯ সালে প্রখ্যাত পরিচালক জন ফোর্ডের ‘স্টেজকোচ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই একটি সিনেমাই তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ‘দ্য সার্চার্স’, ‘রেড রিভার’ কিংবা ‘হাই নুন’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলো তাকে হলিউডের ইতিহাসের অন্যতম শীর্ষ তারকায় পরিণত করে। তবে অভিনেতা হিসেবে তার শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত স্বীকৃতি আসে ১৯৬৯ সালে ‘ট্রু গ্রিট’ চলচ্চিত্রের জন্য, যেখানে এক চোখকানা, খিটখিটে স্বভাবের মার্কিন মার্শাল রুস্টার কগবার্ন চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অস্কার (Academy Award) লাভ করেন। ৫ দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় ১৭৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যার সিংহভাগই ছিল বক্স অফিস সফল।
১৯৭৯ সালের ১১ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে এই মহানায়ক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পাকস্থলীর ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৭২ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তিনি। তার প্রয়াণে হলিউডের একটি গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটে। মৃত্যুর এত বছর পরও, যখনই কোনো ক্লাসিক ওয়েস্টার্ন সিনেমার কথা ওঠে, যখনই রুপালি পর্দায় কোনো অকুতোভয় কাউবয়ের গল্প বলা হয়, তখনই সবার আগে উচ্চারিত হয় জন ওয়েনের নাম। তিনি চলে গেছেন ঠিকই, কিন্তু মার্কিন চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার রেখে যাওয়া পদচিহ্ন আজও সমান উজ্জ্বল।