Thursday 11 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাড়তি কর দিয়ে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১১ জুন ২০২৬ ১৭:০০ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৭:৩৮

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাড়তি কর দিয়ে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বা ‘কালো টাকা’ বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার আওতায় বিনিয়োগ করা অর্থের উৎস নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন তোলা হবে না এবং সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জমি বা সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল মূল্যের চেয়ে প্রকৃত লেনদেনের মূল্য বেশি হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই সেই অতিরিক্ত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের উৎস নিয়ে কোনো সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগে অপ্রদর্শিত থাকা অর্থের ওপর করদাতাকে প্রচলিত করহার অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে। ব্যক্তিগত করদাতাদের ক্ষেত্রে এই হার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এর পাশাপাশি প্রদেয় করের ওপর আরও ২০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর বা জরিমানা দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

উদাহরণ হিসেবে, কোনো সম্পত্তির দলিল মূল্য ৫০ লাখ টাকা হলেও প্রকৃত লেনদেনমূল্য যদি ৩ কোটি টাকা হয় এবং আগে শুধু দলিলমূল্যই প্রদর্শন করা হয়ে থাকে, তাহলে ক্রেতা বা বিক্রেতা উভয়েই প্রযোজ্য কর ও ২০ শতাংশ জরিমানা পরিশোধ করে বাকি অর্থ ঘোষণা করতে পারবেন। এর বিনিময়ে ওই অর্থের উৎস নিয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ প্রশ্ন তুলতে পারবে না। ভবিষ্যতের লেনদেনের ক্ষেত্রেও একই নিয়মে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রকাশের সুযোগ থাকবে।

ব্যবসায়ীদের সংশয়

তবে আবাসন খাতের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, সাধারণ করহার বহাল রেখে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দিলে তাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ খুব বেশি থাকবে না।

তাদের মতে, নিয়মিত করহার অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হলে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য এই সুবিধা গ্রহণের তেমন কোনো প্রণোদনা থাকবে না। বরং নির্দিষ্ট করহার নির্ধারণ এবং অর্থের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হলে বিনিয়োগ ও অর্থ প্রকাশের প্রবণতা বাড়তে পারে।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস বলেন, ‘দলিল মূল্যের সঙ্গে যুক্ত সাধারণ হারে কর আরোপ করা হলে কেউ তা প্রকাশ করতে চাইবে না। তবে যদি করদাতাদের নির্দিষ্ট হারে কর দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং কোনো কর্তৃপক্ষ অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলে, তবে বিনিয়োগ বাড়তে পারে।’

দায়মুক্তির বিরোধিতায় বিশেষজ্ঞরা

অন্যদিকে, তদন্ত ছাড়াই বা অর্থের উৎস অনুসন্ধান না করে অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করছেন কর বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ ধরনের দায়মুক্তি অবৈধভাবে অর্জিত অর্থকে বৈধ করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর