Thursday 11 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাজেটে নির্বাচন কমিশনে ৪ হাজার ৪শ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১১ জুন ২০২৬ ১৮:০৭ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৮:৫১

ঢাকা: দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা সংস্কার, ভোটার তালিকা আধুনিকায়ন এবং আসন্ন নির্বাচনগুলোকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য ৪ হাজার ৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করেন। এই মোট বরাদ্দের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা খাতেই রাখা হয়েছে সিংহভাগ, অর্থাৎ ৩ হাজার ৬৪৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতের জন্য ৭৫৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব ও কার্যাবলি

বাজেট প্রস্তাবনায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান কাজগুলোর একটি বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নিখুঁত ভোটার তালিকা তৈরি এবং এর ডাটাবেইজ ও ডাটা সেন্টার রক্ষণাবেক্ষণ করা। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণ, সব ধরনের নির্বাচন ও উপ-নির্বাচন পরিচালনা, নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রদান ও সংশ্লিষ্ট সেবা, নির্বাচনি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও প্রতীক সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কমিশনের প্রধান কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।

অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ৪টি মূল খাত ও কর্মসূচি

সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বাজেটে নির্বাচন কমিশনের ৪টি বিশেষ কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:

১. সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন পরিচালনাকে এবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

২. ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নির্ভুল বায়োমেট্রিক্স: একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো সঠিক ভোটার তালিকা। নতুন ও বাদ পড়া ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ছবি, আইরিশ (চোখের মণি), ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং ডিজিটাল স্বাক্ষরসহ নির্ভুল বায়োমেট্রিক্স ডাটা সংগ্রহের কাজ চলমান থাকবে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও বিতরণ করা হবে।

৩. তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার: নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইসির নিজস্ব সার্ভার ও ডাটা সেন্টার স্থাপন এবং নিরাপদ ভিপিএন (VPN) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোর সাথে আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তির মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগের কার্যক্রম এবং আধুনিক হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ব্যবহার অব্যাহত থাকবে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও স্বল্পসময়ে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে।

৪. জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচার: নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি বিধিবিধান প্রতিপালন এবং সংস্কারের সুপারিশমালা তৈরির জন্য বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হবে।

সারাবাংলা/এনএল/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর