Wednesday 22 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সংরক্ষিত নারী আসন
মনোনয়ন বাতিলে কী হতে পারে? আইন যা বলছে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২২ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৪৩

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ফাইল ছবি

ঢাকা: সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রথম দিনেই আইনি জটিলতায় পড়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ায় জোটশরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ ছাড়া, আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাই স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এনসিপির আসন হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কিছু নথি এবং জামানতসংক্রান্ত জটিলতা থাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটি গ্রহণ করেননি। আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক প্রক্রিয়ায় ফরম পূরণ না করা হলে বা নথিতে বড়ধরনের ত্রুটি থাকলে রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিলের এখতিয়ার রাখেন। তবে জামায়াত জোটের দাবি, এটি ছোটখাটো ত্রুটি এবং তারা এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জানা গেছে, এনসিপির মনিরা শারমিন সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পাঁচ মাসের মাথায় জোটের সমর্থন নিয়ে তিনি সংসদ সদস্য হতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। মনিরা ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল (১০ম গ্রেড) পদে নিয়োগ পান। নিয়োগের পর তিনি প্রথমে ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দেন। পরে ২০২৪ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বদলি হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। মনিরা শারমিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে তিনি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

তবে গণপ্রতিনিধি আদেশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের তিন বছর সময় পার না হলে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এখন কোনো জোটের যদি কারও মনোনয়ন বাতিল হয়, সেক্ষেত্রে কী হবে?

আইন যা বলছে

এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নির্বাচনি আইন (সংরক্ষিত মহিলা আসন নির্বাচন আইন, ২০০৪) থেকে জানা যায়, কোনো দল বা জোটের জন্য বরাদ্দকৃত আসনের বিপরীতে যদি সমসংখ্যক প্রার্থী না পাওয়া যায় কিংবা বাছাইয়ে কারও মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়, তবে সেই আসনটি আর সংশ্লিষ্ট জোটের অধীনে থাকে না।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এর ৩০ (১) (ঘ) এর ধারা ১২ এর উপ-ধারা (৪) ধারা অনুযায়ী, ‘উক্ত রাজনৈতিক দল বা জোটের আসন বা আসনসমূহ সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের মধ্যে নির্বাচনের জন্য উন্মুক্ত করা হইবে।’

যদি কোনো জোট ১৩টি আসন পায় কিন্তু তাদের একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়, তবে অবশিষ্ট ওই আসনে আর সেই জোটের একচ্ছত্র অধিকার থাকে না। তখন ওই একক শূন্য আসনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুনরায় তফসিল ঘোষণা করতে পারে। সেক্ষেত্রে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অন্যান্য দল বা স্বতন্ত্র জোট সেই আসনে প্রার্থী দিতে পারে।

সুবিধা পেতে পারে অন্য দল

বর্তমানে হিসাব অনুযায়ী, জামায়াত জোটের এই আসনটি যদি শেষ পর্যন্ত হাতছাড়া হয়, তবে সেটি বিএনপি জোটের ঝুলিতে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিএনপি জোটের সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৩৬ থেকে বেড়ে ৩৭-এ দাঁড়াতে পারে। স্বতন্ত্র জোটের হাতেও ওই আসনটি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন ও জামায়াত জোটের বক্তব্য

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান জানান, ‘আইন সবার জন্য সমান। নথিপত্রে ত্রুটি থাকলে আমাদের সেটি গ্রহণ করার সুযোগ নেই। তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী আপিল করার সুযোগ পাবেন।’

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। ২৬ এপ্রিল আমরা কমিশনের কাছে আপিল করব। আশা করি নুসরাত তাবাসসুম ও মনিরা শারমিন দু’জনেই বৈধ প্রার্থী ঘোষিত হবেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যাচাই বাছাইয়ের প্রার্থিতা বাতিল হলে আইন অনুযায়ী ওই সংরক্ষিত আসনটি সব দলের প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত হবে। নির্বাচন কমিশন এর পর নতুন তফসিল ঘোষণা করবে। তফসিল অনুযায়ী উন্মুক্ত আসনটিতে সব রাজনৈতিক দল বা জোট নতুন করে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। এর পর সংসদ সদস্যদের ভোটে ওই সংরক্ষিত আসনটিতে সদস্য নির্বাচন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলগুলো যাকেই মনোনয়ন দিক, এগুলো যাচাই-বাছাইয়ে আরপিওর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রার্থীরা আপিল করতে পারবেন।’

উল্লেখ্য, ইসির তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ এপ্রিল আপিল দায়ের করা যাবে। ২৭ ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। যদি আপিলেও নুসরাত তাবাসসুম ফিরতে না পারেন, তবে ওই একটি আসনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর