ঢাকা: খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তি আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে মামলা দায়েরের আগে পূর্ব মধ্যস্থতা বা প্রি-স্যুট মিডিয়েশন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে চায় সরকার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতে মামলা করার আগে মধ্যস্থতার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে, যাতে আর্থিক বিরোধ দ্রুত সমাধান সম্ভব হয়।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো, বৈদেশিক লেনদেন সহজীকরণ এবং ব্যাংকিং সেবা দ্রুততর করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর ও মূলধন প্রত্যাবাসন সহজ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ভ্যালুয়েশন রিপোর্টের প্রয়োজন হবে না এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই মূলধন প্রত্যাবাসনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া বৈদেশিক বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় কমাতে নির্ভরযোগ্য আমদানিকারক ও কম-ঝুঁকির পণ্যের ক্ষেত্রে ঋণপত্র (এলসি) ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ধাপে ধাপে শিথিল করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।