ঢাকা: দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে গতি ফেরানো এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট পেশ করেছে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই মেগা বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট।
এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। সংক্ষেপে সরকারের পদক্ষেপগুলো:
পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহীকরণ
বাজেটের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের কাঠামোগত সংস্কার
সরকার একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়তে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।
ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর
বর্তমান ঋণভিত্তিক অর্থনীতি থেকে সরে এসে ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড এফডিআইভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণনির্ভর বিনিয়োগকে ইকুইটিতে রূপান্তরের কথাও বলা হয়েছে।
বন্ড মার্কেট উন্নয়ন
দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য-বন্ড মার্কেট উন্নয়ন, বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড, সুকুক ইত্যাদি বিনিয়োগ উপকরণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ভাল ও সম্ভাবনাময় কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত করতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, দীর্ঘসূ্ত্রিতা, অতিরিক্ত ব্যয়, অনুমোদন ও পরিপালনসংক্রান্ত জটিলতা কমানো হচ্ছে।
আইপিও প্রক্রিয়া সময় নির্ধারিত ও প্রযুক্তি নির্ভর করা হবে। আবেদন দাখিল, আনুষঙ্গিক দলিলাদি, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন ও অনুমোদনের ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে।
ইস্যুয়ার কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে, তথ্যের আদান প্রদান সমর্থিত ডিজিটাল প্লাটফর্মে করা হবে।
স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থায়নের জন্য মিউনিসিপ্যাল বন্ড ইস্যুর কাঠামো প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।
পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় টি+২ থেকে কমিয়ে টি+০ করা হবে।
পুঁজিবাজার ধ্বংসের অভিযোগ ও পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, স্ক্যাম ও ভুল নীতির কারণে পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে।