ঢাকা: দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ, ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনা এবং দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং এ খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিতর্কিত বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয় চুক্তির কারণেও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে দেশে আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে এখনো নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
সরকার জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ বা আধুনিকায়ন, ‘লিস্ট, কষ্ট জেনারেশন’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট গ্রিড উন্নয়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা এবং সঞ্চালন লাইন ২৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার কথাও বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও আমদানিনির্ভরতার কারণে এ খাত গভীর সংকটে পড়েছে। স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান, রিফাইনিং, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী তিন বছরে বাপেক্সের মাধ্যমে ২৭০ কিলোমিটার ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ৭০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (টু-ডি) এবং ৭০০ বর্গকিলোমিটার ত্রিমাত্রিক (থ্রি-ডি) সাইসমিক জরিপ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদে ৬৯টি কূপ খনন এবং ৩১টি কূপের ওয়ার্কওভারও করা হবে।
এ ছাড়া নতুন অনুসন্ধান রিগ কেনা, সমুদ্র এলাকায় নতুন অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষণা, মহেশখালীতে নতুন এলএনজি অবকাঠামো স্থাপন এবং চট্টগ্রাম বা উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে ৫০ লাখ মেট্রিক টন পরিশোধন সক্ষমতার নতুন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।