Wednesday 10 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রেকর্ড ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আসছে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১০ জুন ২০২৬ ২২:১৯

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছর। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন এবং ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ: সবার জন্য উন্নয়ন’ দর্শনকে সামনে রেখে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিতব্য বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এটি মোট জিডিপি’র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপি’র ১২ দশমিক ৬ শতাংশ)। সংশোধিত বাজেটে আকার প্রাক্কলন করা হয় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা । সেই হিসাবে এবারের বাজেটের আকার বাড়ছে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

রাজস্ব আদায়

প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থায়ন তথা রাজস্ব আদায়। বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি’র অনুপাত ৮ শতাংশের নিচে রয়েছে। সূত্র মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। চলতি বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া এনবিআর-বহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর ব্যতীত প্রাপ্তির (এনটিআর) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

চলতি বাজেটে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া এনবিআর-বহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তির (এনটিআর) লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়ন

প্রস্তাবিত বাজেটে অনুদান ছাড়া সার্বিক ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপি’র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এটিও ছিল জিডিপি’র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। এটি জিডিপি’র ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

বাজেট ঘাটতি পূরণে আগামী বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিট ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ এবং ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হবে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে নিট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণে বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। এর বিপরীতে সংশোধিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেখানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। চলতি মূল বাজেটে এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে নেওয়া হয়েছে ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে পরিশোধ করা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

কোন খাতে কত ব্যয়

প্রতিবারের মত এবারও বাজেটে পরিচালনা ও অন্যান্য খাতে (অনুন্নয়ন) ব্যয় বাড়ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এসব খাতে মোট ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ খাতে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সংশোধিত বাজেটে এটি বেড়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, নতুন বাজেটে মন্ত্রণালয়গুলোর পরিচালন ব্যয় বাবদ ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা।

নন-এডিপি ও মূলধন ব্যয় বাবদ নতুন বাজেটে ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ৫২ হাজার ১৪২ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে এটি বেড়ে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া ভর্তুকি প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে নতুন বাজেটে ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাতে মূল বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা এবং সংশোধিত বাজেটে এটি ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে।

উন্নয়ন ব্যয়/বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)

প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি)-এর আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এডিপি’র আকার ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এটি কাটছাঁট করে ২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/এসআর/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর