মার্কিন বিনোদন জগতে ফের শোকের ছায়া ও রহস্যের ঘনঘটা। কিছুদিন পরেই ৩৭ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল মার্কিন অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারের। তবে তার আগেই গত ১৬ আগস্ট দক্ষিণ ক্যারোলাইনার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয় তার প্রাণহীন দেহ। লস অ্যাঞ্জেলেস ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনার ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (ডিইএ) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করার পর সম্প্রতি বেরিয়ে এসেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সাধারণ কোনো ব্যথানাশক মনে করে ওষুধ সেবন করেছিলেন এই তারকা। তবে প্রকৃতপক্ষে সেটি ছিল অতিরিক্ত বিষাক্ত বা ভেজালমিশ্রিত এক প্রাণঘাতী বড়ি। সাধারণ ব্যথানাশক অক্সিকোডোন ভেবে তিনি যে বড়িটি খেয়েছিলেন, তাতে অতিমাত্রায় ‘ফেনটানিল’ মেশানো ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেনটানিল মূলত এমন এক শক্তিশালী সিন্থেটিক মাদক, যা সাধারণ হেরোইনের চেয়েও প্রায় ৫০ গুণ বেশি মারাত্মক হতে পারে।
তদন্তকারীদের মতে, দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় আসার আগেই লস অ্যাঞ্জেলেসে এক পরিচিত মাদক সরবরাহকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন হেইডেন। মূলত সেখান থেকেই বিষাক্ত ওষুধটি তার হাতে পৌঁছেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মৃত্যুর ঘটনায় তার সাবেক প্রেমিক ব্রায়ান হিকারসনকেও ইতিমধ্যে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। যদিও চিকিৎসাগত ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ টক্সিকোলজি রিপোর্ট পেতে আরও প্রায় ১২ সপ্তাহ সময় লাগবে, তবুও লস অ্যাঞ্জেলেস ও দক্ষিণ ক্যারোলাইনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পুরোদমে সন্ধান চালাচ্ছে ঠিক কার হাত ধরে এই ভয়ঙ্কর ও প্রাণঘাতী পিলটি অভিনেত্রীর কাছে এসেছিল।