Wednesday 07 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গ্র্যামিতে অংশ নিতে পারবেনা ব্ল্যাকপিংক, স্ট্রে কিডস ও বিটিএস!

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৪৯

৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে কোরিয়ান পপসংগীতের বড় তারকাদের অনুপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও চর্চা শুরু হয়েছে। বিটিএস ও স্ট্রে কিডসের পর এবার ব্ল্যাকপিংকও ২০২৭ সালের গ্র্যামিতে অংশ নিতে পারবে না বলে জানা গেছে। মূলত যোগ্যতার সময়সীমা এবং নতুন ক্যাটাগরির নিয়মের কারণেই গ্র্যামিতে নিজেদের সর্বশেষ অ্যালবাম জমা দিতে পারেনি এই জনপ্রিয় দলটি। দ্য রেকর্ডিং একাডেমি সম্প্রতি গ্র্যামিতে বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স নামে নতুন একটি বিভাগ চালু করে। এতে কে-পপ, জে-পপ ও সি-পপসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের পপসংগীতকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ফলে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কে-পপ ভক্তদের মনে এই অনুষ্ঠান নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে সময়সীমা ও ভাষাগত শর্তের কারণে ব্ল্যাকপিংকের অ্যালবামটি শেষ পর্যন্ত অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ব্ল্যাকপিংকের সর্বশেষ তৃতীয় ছোট অ্যালবামে ছিল মোট পাঁচটি গান, যার শিরোনাম জাম্প, গো, মি অ্যান্ড মাই, চ্যাম্পিয়ন এবং এফএক্সএক্সববয়। অ্যালবামটি ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হলেও ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। অ্যালবামের জাম্প গানটি আলাদা একক গান হিসেবে ২০২৫ সালের ১১ জুলাই প্রকাশিত হওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়সীমার আগেই বাজারে চলে আসে। অন্যদিকে অ্যালবামের বাকি চারটি গান সম্পূর্ণ ইংরেজিতে গাওয়া। নতুন এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স ক্যাটাগরির ভাষাগত শর্তের কারণে সেগুলোও আর যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি। একই কারণে দলটির সদস্যদের একক গানগুলোও এই বিভাগে স্থান পায়নি। তবে ব্ল্যাকপিংকের সদস্য রোজে ব্যক্তিগতভাবে তিনটি বড় বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন। ব্রুনো মার্সের সঙ্গে গাওয়া তার জনপ্রিয় এপিটি গানটি রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, সং অব দ্য ইয়ার এবং বেস্ট পপ ডুও অথবা গ্রুপ পারফরম্যান্স বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে। একইসঙ্গে গ্র্যামির মূল মঞ্চে এককভাবে গান পরিবেশন করা প্রথম কে-পপ শিল্পী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন রোজে।

এর আগেই অবশ্য বিটিএস এবং স্ট্রে কিডসের মতো জনপ্রিয় দলগুলো এই পুরস্কার অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। বিটিএস ২০২৬ সালের আগস্টে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে তারা ২০২৭ সালের গ্র্যামির জন্য কোনো গান জমা দিচ্ছে না। তাদের পরিচালনকারী প্রতিষ্ঠান বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্ট সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় জানায়, তারা গান না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ তারা চায় অঞ্চল কিংবা ভাষার বিচারে গানকে আলাদা না করে গানের নিজস্ব পরিচয়েই মানুষের কাছে পৌঁছাতে ও ভালোবাসা পেতে। একই পথে হেঁটে স্ট্রে কিডসের প্রতিষ্ঠান জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্টও নিশ্চিত করে যে তারাও ৬৯তম আসরের জন্য কোনো গান পাঠাচ্ছে না, যদিও তারা নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।

এদিকে নতুন চালু হওয়া বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স বিভাগটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংগীত দুনিয়ায় বিতর্ক থামছে না। আয়োজকদের দাবি, এশিয়ার বাজার থেকে তৈরি হওয়া কিংবা জনপ্রিয় পপসংগীতের শিল্পীদের দক্ষতা মূল্যায়নের জন্যই কে-পপ, জে-পপ ও সি-পপের মতো ধারাগুলোকে এই ক্যাটাগরিতে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে অন্তত একটি এশীয় ভাষার ব্যবহার থাকা বাধ্যতামূলক। তবে আন্তর্জাতিক এই বিশাল পুরস্কারের আসরে এশিয়ার গানকে আলাদা একটি ক্যাটাগরিতে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না ভক্ত ও সমালোচকদের একটি বড় অংশ, যা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে।