Wednesday 04 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অনেকগুলো বউ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে, তবে অর্পিতা এখনো…

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
৪ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:০৪

সিনেমা হলের অন্ধকার গ্যালারিতে আলো জ্বলে ওঠার আগের সেই আকুলতা কিংবা সেলুলয়েডের পর্দায় নায়কের একটা চাউনিতে কোটি তরুণের হৃদয়ে ঝড় তোলার ইতিহাস এসবকিছুর মাঝেই ওপার বাংলার চলচ্চিত্রে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে চলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পঁচিশ বছর বয়সের টগবগে তরুণ থেকে শুরু করে আজকের পরিণত মধ্যবয়স চলচ্চিত্রের প্রতিটি মোড়ে নিজের বহুমুখী অভিনয় দক্ষতার জাদুতে যিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা সিনেমার অবিসংবাদিত ‘ইন্ডাস্ট্রি’। পেশাগত জীবনের আলোকময় হাজারো পৃষ্ঠার ভিড়ে পর্দার পেছনের মানুষটা বরাবরই একটু আড়ালে থাকতে ভালোবাসেন। কিন্তু সেই আড়ালের মানুষটাই যখন জীবনের ফেলে আসা বসন্ত আর ভাঙা-গড়ার গল্পগুলো অকপটে খোলেন, তখন তা রূপ নেয় এক সিনেমার চেয়েও রোমাঞ্চকর উপাখ্যানে।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত জীবনের চড়াই-উতরাই প্রসেনজিতের ঝুলিতে যোগ করেছে নানা অভিজ্ঞতা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢালিউড ও টলিউডের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার সময়ে ১৯৯২ সালে অভিনেত্রী দেবশ্রীর সঙ্গে জীবনের প্রথম ঘর বাঁধার অধ্যায় শুরু করেছিলেন তিনি। তখনকার দিনে দুই তারকার সেই রোমান্স অনুরাগীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। কিন্তু পর্দার রোমান্স আর বাস্তব জীবনের সংসার তো এক নয়; প্রসেনজিতের প্রথাগত চাওয়া স্ত্রী কেবল গৃহকোণে সংসার সামলান—সেই সময়ের স্বাধীনচেতা দেবশ্রীর সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়নি। ফলশ্রুতিতে মাত্র তিন বছরের মাথায় সেই ভালোবাসার বন্দরে নেমে আসে বিচ্ছেদের বিষাদ। এরপর দ্বিতীয়বার ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে অপর্ণা গুহঠাকুরতার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন অভিনেতা। অপর্ণার সঙ্গে তার সংসারে প্রেরণা নামের এক কন্যাসন্তানও আসে। কিন্তু নিয়তির অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল। সময়ের পরিক্রমায় জীবনের নানা জটিল সমীকরণ আর পরকীয়ার গুঞ্জনে সেই সংসারও টেকেনি। আত্মসম্মানের টানে অপর্ণা বেছে নেন বিচ্ছেদের কঠিন পথ, যা প্রসেনজিৎকে ব্যক্তিগত জীবনে কিছুটা নিঃসঙ্গ করে তোলে।

তবে জীবনের সমস্ত ধূসরতা আর ভাঙনের ধাক্কা সামলে আলোর দিশারী হয়ে আসেন অভিনেত্রী অর্পিতা পাল। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০০২ সালে অর্পিতাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন প্রসেনজিৎ। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়। আজকের দিনে এসে অর্পিতার সঙ্গে তার এই সুদীর্ঘ পথচলাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অতীতের সেই ব্যর্থ দাম্পত্যের কথা রসিকতার সুরে টেনে বর্তমান স্ত্রী অর্পিতার প্রতি নিজের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বুম্বাদা। মজার ছলেই হোক আর শ্রদ্ধার সঙ্গেই হোক, তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে এতদিন তার মতো মানুষের পাশে থেকে সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য অর্পিতাকে তিনি ভীষণ সম্মান করেন। অতীতের বহু ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে অর্পিতা যেভাবে প্রতিটি পদক্ষেপে তার পাশে থেকেছেন, তা তাদের সম্পর্ককে দিয়েছে এক মজবুত ভিত।

আজকের দিনে একমাত্র পুত্র মিশুককে সঙ্গে নিয়ে টলিপাড়ার এই জনপ্রিয় জুটির সংসার যেন এক শান্ত ও স্নিগ্ধ নীড়। পেশাগত সাফল্যের শিখরে থেকেও ব্যক্তিগত জীবনের এই প্রাপ্তি এবং অর্পিতার পরিপক্ব ভালোবাসাই প্রসেনজিতের জীবনের আসল প্রশান্তি। পর্দার নায়ক থেকে শুরু করে ঘরের একজন দায়িত্বশীল স্বামী ও পিতা সব মিলিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের এই অন্তরালের গল্পটি প্রমাণ করে যে, সফলতার আসল রূপ লুকিয়ে থাকে দীর্ঘ পথচলার একাত্মতায় ও ভালোবাসার অবিচল আস্থায়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর