২৮ নভেম্বর ক্যালেন্ডারে বরফ-ঠান্ডা কোনো নোটেশনের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু জানেন কি, এই দিনটির ভেতর লুকিয়ে আছে মহাবিশ্বের এক টুকরো লাল আগুন? হ্যাঁ, আজ রেড প্ল্যানেট ডে— মঙ্গলগ্রহকে ঘিরে রহস্য, কৌতূহল আর মানবজাতির চিরন্তন এক প্রশ্নের দিন: ‘পৃথিবীর বাইরে আর কোথাও কি জীবন আছে?’
কেন আজ মঙ্গল দিবস?
১৯৬৪ সালের ২৮ নভেম্বর নাসা মহাকাশে পাঠিয়েছিল Mariner 4 নামের ছোট্ট কিন্তু ঐতিহাসিক এক স্পেসক্রাফট। এটি ছিল প্রথম সফল মঙ্গল মিশন যা মানবজাতিকে পাঠিয়েছিল লাল গ্রহের বাস্তব ছবি। তার আগে পর্যন্ত মঙ্গল ছিল পুরোটাই কল্পনার রাজ্য— রক্তিম গোলক, সম্ভাব্য প্রাণী, আর ‘মঙ্গলবাসী’ নিয়ে ভুড়িয়ে গল্প।
ম্যারিনার ৪ দূর থেকে যে সত্যিকারের ছবি পাঠালো, তা আমাদের চোখে খুলে দিল এক নতুন দিগন্ত— নীরব, ধুলিময়, বরফের টুপি পরা, এবং রহস্যে মোড়া এক গ্রহ।
মঙ্গল: এত লাল কেন?
মঙ্গলের মাটি ও পাথরে রয়েছে প্রচুর আয়রন অক্সাইড— আমাদের পরিচিত মরিচার মতো পদার্থ। তাই গ্রহটি মহাকাশ থেকে দেখলে মনে হয় বিশাল লালচে গোলক। এ কারণেই তাকে আদর করে বলা হয়— Red Planet।
জীবনের খোঁজ: রেড প্ল্যানেটে কি কেউ আছে?
মঙ্গল বহু যুগ ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আজও সেখানে রোভার ঘুরে বেড়াচ্ছে— কিউরিওসিটি, পারসিভিয়ারেন্স, আর আকাশে উড়ছিল ছোট্ট হেলিকপ্টার ইনজেনুইটি। তারা খুঁজছে—
পুরোনো পানির চিহ্ন,
বরফের স্তর,
অণুজীবের সম্ভাব্য অস্তিত্ব,
ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসযোগ্য পরিবেশ।
মানুষ কি কখনও মঙ্গলে পৌঁছাবে?
নাসার মতে— হ্যাঁ, হয়তো খুব শিগগিরই। স্পেসএক্স তো আরো এগিয়ে স্বপ্ন দেখছে মঙ্গলে মানববসতি গড়ার।
রেড প্ল্যানেট ডে কেন মজার?
কারণ এটি মহাকাশপ্রেমীদের জন্য যেন এক উৎসব–
আজ আপনি পারেন—
রাতের আকাশে মঙ্গল খুঁজতে,
মহাকাশের কোনো ডকুমেন্টারি দেখতে,
‘দ্য মার্শিয়ান’ বা ‘ইন্টারস্টেলার’ আবার দেখে নিতে,
লাল কেক, লাল ককটেল বা টমেটো স্যুপ বানিয়ে থিম বানাতে,
কিংবা ভাবতে— একদিন কি আমার ঠিকানার লাইনে লিখব: Mars Colony – 01?
মহাবিশ্বের দিকে মানবজাতির চাওয়ার দিন
রেড প্ল্যানেট ডে শুধু একটি তারিখ নয়— এটি আমাদের কৌতূহল, মানবমনের অনুসন্ধান, আর সীমা ভাঙার ইচ্ছার প্রতীক। আমরা আজও জানি না, মহাবিশ্বে আমরা একা কি না। কিন্তু প্রমাণ পাওয়া না পর্যন্ত আমাদের অনুসন্ধান থামছে না— আর সেই তাগিদই এই দিনকে করে তোলে রোমাঞ্চকর।
শেষ কথা
২৮ নভেম্বর তাই শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়, মানুষের কল্পনায়ও আলাদা এক জায়গা রাখে। আজ আমরা পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে লাল গ্রহের দিকে তাকাই— মহাশূন্যের দূরের এক প্রতিবেশী, যার রহস্য আমাদের টানে, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়, আর স্বপ্ন দেখায় এক নতুন ভবিষ্যতের।
হয়তো সত্যি, কোনোদিন এই দিনের গল্প আমরা বলব মঙ্গলগ্রহ থেকেই!