Monday 19 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইউটিউবে ভিউ ছাড়াও আয়ের ৩ গোপন মন্ত্র

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:১০

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইউটিউব এখন আর কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং আয়ের এক নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। তবে অধিকাংশ নতুন ক্রিয়েটর মনে করেন ইউটিউব মানেই শুধু গুগল অ্যাডসেন্স বা ভিউ থেকে আয়। কিন্তু ৩টি বিশেষ কৌশল কাজে লাগাতে পারলে বিজ্ঞাপন ছাড়াও আয়ের অংক কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। আসুন জেনে নেই সেই উপায়।

১. বিজ্ঞাপনের বাইরে ‘ব্র্যান্ড ডিল’ ও স্পন্সরশিপ

ইউটিউবে আয়ের মূল চাবিকাঠি শুধু ভিউ নয়। অনেক সময় লাখ লাখ ভিউ হওয়া বিনোদন ভিডিওর চেয়ে অল্প ভিউ হওয়া তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যবসা-সংক্রান্ত ভিডিওর আয় বেশি হয়। এর কারণ হলো সিপিএম (CPM) এবং ব্র্যান্ড ডিল। বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য সরাসরি ক্রিয়েটরদের সাথে চুক্তি করে। অনেক ক্ষেত্রে ভিউ থেকে আসা আয়ের চেয়ে ব্র্যান্ড ডিল থেকে আসা আয়ের পরিমাণ কয়েক গুণ বেশি হয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

২. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও মেম্বারশিপ

ভিডিওর ডেসক্রিপশন বক্সে কোনো পণ্যের অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক শেয়ার করে বাড়তি আয় করা যায়। যদি কোনো দর্শক সেই লিঙ্কে ক্লিক করে পণ্য কেনেন, তবে ক্রিয়েটর নির্দিষ্ট হারে কমিশন পান। এছাড়া বিশ্বস্ত দর্শকদের জন্য ইউটিউব ‘মেম্বারশিপ’ ফিচার চালু রেখেছে, যেখানে দর্শকরা মাসিক ফির বিনিময়ে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

৩. কনটেন্ট ক্যাটাগরি ও দেশভিত্তিক টার্গেট

আয়ের ক্ষেত্রে ভিডিওর বিষয়বস্তু ও দর্শক কোন দেশের, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণ, অর্থায়ন (Finance), এবং তথ্যপ্রযুক্তির ভিডিওতে বিজ্ঞাপনের রেট বেশি থাকে। স্থানীয় ভিউ থেকে প্রতি লাখে গড়ে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আয় হতে পারে। তবে দর্শক যদি উন্নত দেশের (যেমন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ) হয়, তবে আয়ের পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

স্বীকৃতি যখন গোল্ডেন বাটন

অনেকে মনে করেন ভিউ বেশি হলে ইউটিউব বাটন দেয়, যা একটি ভুল ধারণা। ইউটিউবের স্বীকৃতিগুলো মূলত সাবস্ক্রাইবারের ওপর নির্ভর করে:

সিলভার বাটন: ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার।

গোল্ডেন বাটন: ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার।

ডায়মন্ড বাটন: ১ কোটি সাবস্ক্রাইবার।

সতর্কতা: ইউটিউব থেকে স্থায়ী আয়ের জন্য অন্যের ভিডিও কপি করা থেকে বিরত থাকুন। কপিরাইট আইন অমান্য করলে চ্যানেল যেকোনো সময় ডিলিট হয়ে যেতে পারে। সর্বদা মৌলিক এবং তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরিতে মন দিন।

পরিশেষ: ইউটিউবে সফল হতে হলে শুধু ভাইরাল হওয়ার চিন্তা না করে সাবস্ক্রাইবার বেস তৈরি এবং আয়ের বহুমুখীকরণ প্রয়োজন। সঠিক গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকলে ইউটিউব হতে পারে আপনার ক্যারিয়ারের সেরা আয়ের উৎস।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর