বাসার ভেতরে বা অফিস ভবনে অনেক সময় মোবাইলে নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। জরুরি কথা বলার সময় কল ড্রপ বা অস্পষ্ট আওয়াজ বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ‘ওয়াই-ফাই কলিং’ বা VoWiFi (Voice over Wi-Fi) সেবা। ২০২৬ সালের শুরুতেই গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক দেশজুড়ে এই সেবা বিস্তারের ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে ফোনে সিমের সিগন্যাল না থাকলেও কেবল একটি ওয়াই-ফাই সংযোগ থাকলেই আপনি স্বাভাবিকভাবে কল করতে ও রিসিভ করতে পারবেন।
ওয়াই-ফাই কলিং আসলে কী?
এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা আপনার মোবাইল অপারেটরের টাওয়ারের পরিবর্তে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কল সংযোগ স্থাপন করে। এর জন্য কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ (যেমন- হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার) প্রয়োজন হয় না। আপনার ফোনের সাধারণ ডায়ালার থেকেই কল করা যায় এবং যাকে কল করছেন তার ফোনে ইন্টারনেট থাকা জরুরি নয়।
কীভাবে চালু করবেন?
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য: ১. ফোনের Settings-এ যান। ২. Connections বা Mobile Network অপশনে প্রবেশ করুন। ৩. সেখানে Wi-Fi Calling অপশনটি খুঁজে বের করে ‘On’ করে দিন। (মডেলভেদে এটি সিম সেটিংসের ভেতরেও থাকতে পারে)।
আইফোন (iOS) ব্যবহারকারীদের জন্য: ১. Settings থেকে Phone অপশনে যান। ২. সেখানে Wi-Fi Calling বিকল্পটি বেছে নিয়ে সুইচটি অন করে দিন।
কেন এটি ব্যবহার করবেন?
উন্নত কল কোয়ালিটি: সাধারণ কলের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট এইচডি (HD) ভয়েস পাওয়া যায়।
সাশ্রয়ী: অতিরিক্ত কোনো চার্জ ছাড়াই বর্তমান ট্যারিফ প্ল্যানেই কথা বলা যায়। বিশেষ করে রোমিংয়ের ক্ষেত্রে এটি খরচ কমাতে দারুণ কার্যকর।
স্মার্ট সুইচিং: আপনি যদি কথা বলতে বলতে ওয়াই-ফাই এলাকার বাইরে চলে যান, তবে কলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কে (VoLTE) স্থানান্তরিত হবে, কল কাটবে না।
সতর্কতা: এই সেবা পেতে আপনার ফোনটি অবশ্যই VoWiFi সমর্থিত হতে হবে এবং সিমে VoLTE সেবা চালু থাকতে হবে। বর্তমানে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক নির্দিষ্ট কিছু ইন্টারনেট সেবাদাতা (ISP) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই সুবিধা দিচ্ছে। তাই আপনার এলাকার ওয়াই-ফাই প্রোভাইডার এই সেবা সমর্থন করে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নিন।
পরিশেষ: ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে ওয়াই-ফাই কলিং একটি বড় মাইলফলক। ইনডোর নেটওয়ার্কের সমস্যা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি গেম-চেঞ্জার হতে পারে।