বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জয়জয়কার। এই বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘চ্যাটজিপিটি’ (ChatGPT)। কিন্তু প্রতিদিন যে ‘GPT’ আমরা ব্যবহার করছি, তার পূর্ণরূপ কিংবা এর পেছনের রহস্যটি অনেকেরই অজানা। বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই তিনটি অক্ষরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আধুনিক বিজ্ঞানের সবচেয়ে যুগান্তকারী উদ্ভাবন। ২০২৬ সালের অত্যাধুনিক GPT-5 বা তার পরবর্তী সংস্করণগুলোর ভিত্তিও লুকিয়ে আছে এই তিনটি শব্দে।
GPT-এর পূর্ণরূপ ও এর নেপথ্য শক্তি
GPT হলো মূলত ‘Generative Pre-trained Transformer’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এর প্রতিটি অংশ যেভাবে কাজ করে:
১. জেনারেটিভ (Generative): নতুন কিছু তৈরির কারিগর প্রথাগত এআই যেখানে কেবল তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারত, সেখানে জেনারেটিভ এআই সম্পূর্ণ নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে সক্ষম। এটি মানুষের ভাষার ধরন বুঝে মৌলিক প্রবন্ধ, জটিল প্রোগ্রামিং কোড থেকে শুরু করে কবিতাও লিখে দিতে পারে। মানুষের মতো সৃজনশীল ও সুসংগত উত্তর প্রদানই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
২. প্রি-ট্রেইনড (Pre-Trained): বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার একটি মডেলকে সবার সামনে আনার আগে তাকে কয়েক হাজার কোটি শব্দ, বই, ওয়েবসাইট ও নথিপত্র থেকে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা দেওয়া হয়। একেই বলা হয় ‘প্রি-ট্রেনিং’। এই প্রশিক্ষণের ফলেই চ্যাটজিপিটি ভাষা, ব্যাকরণ এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করে, যা তাকে সাধারণ চ্যাটবট থেকে আলাদা করে তুলেছে।
৩. ট্রান্সফরমার (Transformer): এআই-এর প্রযুক্তিগত মস্তিষ্ক ট্রান্সফরমার হলো চ্যাটজিপিটির প্রধান স্থাপত্য বা আর্কিটেকচার। ২০১৭ সালে গুগল গবেষকদের হাত ধরে আসা এই প্রযুক্তি ভাষা প্রক্রিয়াজাত করার ধারণাকেই বদলে দিয়েছে। এর ‘অ্যাটেনশন মেকানিজম’ ব্যবহার করে এটি একটি দীর্ঘ বাক্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটিকে শনাক্ত করতে পারে এবং পুরো লেখাটির প্রেক্ষাপট ধরে রাখতে পারে।
২০২৬ সালে এআই-এর ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
বর্তমান সময়ে GPT প্রযুক্তি কেবল লেখায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন ‘মাল্টিমোডাল’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ভিজ্যুয়াল ও অডিও: এখন এটি ছবি দেখে বিশ্লেষণ করতে পারে এবং মানুষের মতো হুবহু কণ্ঠে কথা বলতে পারে।
রিজনিং ও মেমোরি: নতুন মডেলগুলো (যেমন ও-সিরিজ বা GPT-5) এখন মানুষের মতো দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জটিল সমস্যা নিয়ে চিন্তা করতে পারে এবং ব্যবহারকারীর পছন্দ-অপছন্দ মনে রাখতে পারে।
সতর্কতা: এআই যতই বুদ্ধিমান হোক না কেন, এটি অনেক সময় ভুল বা বানোয়াট তথ্য (AI Hallucination) দিতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল কাজের ক্ষেত্রে এর দেওয়া তথ্য যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
পরিশেষ: জেনারেটিভ, প্রি-ট্রেইনড এবং ট্রান্সফরমারএই তিনটি প্রযুক্তির জাদুকরী মিশেলেই চ্যাটজিপিটি আজ মানবসভ্যতার এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল একটি চ্যাটবট নয় বরং ডিজিটাল যুগে মানুষের এক শক্তিশালী সহযোদ্ধা।