আগে বলা হতো ‘লেখার হাত ভালো’ মানেই সে কবি বা সাহিত্যিক হবে। কিন্তু ২০২৬ সালের বর্তমান ডিজিটাল প্রেক্ষাপটে ভালো লেখার ক্ষমতা আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে আয়ের শিখরে। সাধারণ আর্টিকেল রাইটিংয়ের বাইরেও এখন সৃষ্টি হয়েছে এমন কিছু বিশেষ ক্ষেত্র, যেখানে বার্ষিক আয় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
আসুন জেনে নেই ভালো লেখকদের জন্য আধুনিক আয়ের ৫টি কৌশল:
১. এআই কনটেন্ট স্পেশ্যালিস্ট (AI Content Specialist)
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে সঠিক নির্দেশ (Prompt) দিয়ে মানসম্মত ছবি, গল্প বা কবিতা বের করে আনার কারিগরদের চাহিদা এখন তুঙ্গে। সৃজনশীল লেখার পাশাপাশি যাদের মেশিন লার্নিং বা তথ্য বিশ্লেষণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা আছে, তারা এ পেশায় শুরুতে বার্ষিক ৮ লাখ এবং অভিজ্ঞতায় ১৫-২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
২. পডকাস্ট স্ক্রিপ্টরাইটার (Podcast Scriptwriter)
বর্তমান সময়ে পডকাস্ট বা অডিও শো অত্যন্ত জনপ্রিয়। একজন পডকাস্ট স্ক্রিপ্টরাইটারকে অতিথির জীবন নিয়ে গবেষণা করতে হয় এবং আকর্ষণীয় প্রশ্ন বা কথোপকথন লিখে দিতে হয়। কলা, বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিং—যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থীই এ কাজে যোগ দিতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং বা চুক্তিভিত্তিক এ কাজে বার্ষিক আয় হতে পারে ৬ থেকে ২০ লাখ টাকা।
৩. গেম ন্যারেটিভ ডিজাইন (Game Narrative Designer)
ভিডিও গেমে এখন টানটান উত্তেজনার গল্প থাকে। এই কাহিনি, সংলাপ এবং চরিত্রের রূপরেখা যারা তৈরি করেন, তাদের গেম ন্যারেটিভ ডিজাইনার বলা হয়। গেমিং প্রিয় লেখকদের জন্য এটি স্বপ্নের পেশা। আন্তর্জাতিক সংস্থায় এ কাজের বার্ষিক পারিশ্রমিক ১৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
৪. লিগ্যাল ও টেকনিক্যাল রাইটার
আইনি জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হলো লিগ্যাল কনটেন্ট রাইটারের কাজ। ল ফার্মগুলোতে এদের প্রচুর চাহিদা। অন্যদিকে, কোনো যন্ত্র বা সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি (User Manual) সহজভাবে লেখেন টেকনিক্যাল রাইটাররা। অভিজ্ঞ হয়ে উঠলে এ পেশায় বছরে ২০ লাখ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব।
সতর্কতা
ফ্রিল্যান্সিং বা রিমোট জবের ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন। অনেক সময় ফেইক বা জাল ওয়েবসাইট কাজের অফার দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। তাই ভালো কোনো প্ল্যাটফর্ম (যেমন: LinkedIn, Upwork) ছাড়া সরাসরি অপরিচিত কারো সাথে চুক্তি করবেন না।
পরিশেষ: লেখালিখি এখন আর শুধু শখের বিষয় নয়, বরং একটি উচ্চমানের পেশা। নিজের একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও তৈরি করতে পারলে এবং বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন করলে ঘরে বসেই দেশি-বিদেশি বড় কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ মিলবে।