প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন মিটিং, ক্লাস বা লাইভ স্ট্রিমিংয়ের জন্য ওয়েবক্যাম এখন অপরিহার্য। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কিংবা স্মার্টফোনে এর ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও। সামান্য অসতর্কতায় আপনার অজান্তেই ঘরের ভেতর নজরদারি চালাতে পারে হ্যাকাররা, যা পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল বা ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আসুন জেনে নেই এই ঝুঁকি এড়াতে আমাদের করণীয়…
১. ক্যামেরা লেন্স ঢেকে রাখা (Physical Block)
* নিরাপত্তার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো যখন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন না, তখন লেন্সটি ঢেকে রাখা।
* বাজারে সস্তায় ল্যাপটপের জন্য ‘ওয়েবক্যাম স্লাইডার’ কিনতে পাওয়া যায়।
* স্লাইডার না থাকলে সাধারণ ব্ল্যাক টেপ বা স্টিকার দিয়ে লেন্স ঢেকে রাখতে পারেন।
* ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ থেকে শুরু করে বড় বড় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও তাদের ল্যাপটপের ক্যামেরা টেপ দিয়ে ঢেকে রাখেন।
২. অ্যাপ পারমিশন চেক করা
* অনেক সময় আমরা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার সময় না পড়েই ‘Allow’ বাটনে ক্লিক করি।
* সেটিংস থেকে চেক করুন কোন কোন অ্যাপকে ক্যামেরার অ্যাক্সেস দেওয়া আছে।
* অপ্রয়োজনীয় বা সন্দেহজনক অ্যাপের ক্যামেরা পারমিশন এখনই বন্ধ (Disable) করে দিন।
৩. সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করা
* হ্যাকাররা সাধারণত ‘ফিশিং’ লিঙ্কের মাধ্যমে ডিভাইসে ‘রিমোট অ্যাক্সেস ট্রোজান’ (RAT) পাঠিয়ে দেয়। এতে তারা দূর থেকেই আপনার ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অপরিচিত ইমেইল বা মেসেজের লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।
৪. এন্টি-ভাইরাস ও ওএস আপডেট
আপনার ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম এবং সিকিউরিটি সফটওয়্যার সবসময় আপডেট রাখুন। নতুন আপডেটগুলোতে হ্যাকিং প্রতিরোধে বিশেষ প্যাচ (Patch) থাকে। নিয়মিত কম্পিউটার স্ক্যান করুন যাতে কোনো স্পাইওয়্যার লুকিয়ে থাকতে না পারে।
৫. ক্যামেরার ইন্ডিকেটর লাইটে নজর দিন
যদি দেখেন আপনার ক্যামেরার পাশের ইন্ডিকেটর লাইটটি কারণ ছাড়াই জ্বলছে, তবে বুঝবেন কোনো প্রোগ্রাম আপনার ক্যামেরা ব্যবহার করছে। এমন হলে সাথে সাথে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন এবং বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
মনে রাখবেন, হ্যাকাররা অনেক সময় ইন্ডিকেটর লাইট না জ্বালিয়েও ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তাই ডিজিটাল সুরক্ষার পাশাপাশি ফিজিক্যাল প্রোটেকশন (লেন্স কভার) ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
পরিশেষ: প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি সচেতন থাকা এখন সময়ের দাবি। আপনার ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা বজায় রাখতে ওয়েবক্যাম ব্যবহারে এই ছোট পদক্ষেপগুলোই আপনাকে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।