বর্তমানে এআই-এর যুগে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি যেমন বিস্ময়কর, তেমনি এটি সাইবার অপরাধের বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর এই বিশেষ কারসাজিকেই বলা হয় ‘ডিপফেক’ (Deepfake)। সম্প্রতি বিনোদন জগতের তারকা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অনেকেই এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।
ডিপফেক (Deepfake) আসলে কী?
‘ডিপফেক’ শব্দটি এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘ডিপ লার্নিং’ (Deep Learning) এবং ‘ফেক’ (Fake) শব্দ দুটির সমন্বয়ে। এটি মূলত এআই প্রযুক্তির এমন এক শাখা যা মানুষের ছবি, ভিডিও এবং অডিও বিশ্লেষণ করে তার একটি নিখুঁত ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করে। এর মাধ্যমে একজনের শরীরের ওপর অন্য কারো মুখ বসিয়ে দিয়ে এমন সব কথা বলানো বা কাজ করানো সম্ভব, যা তিনি বাস্তবে কখনোই করেননি।
ডিপফেক ভিডিও চেনার ৬টি ‘সিক্রেট’ টিপস
ডিপফেক ভিডিওগুলো আপাতদৃষ্টিতে নিখুঁত মনে হলেও কিছু সূক্ষ্ম অসঙ্গতি পর্যবেক্ষণ করলে সহজেই এর কারসাজি ধরা সম্ভব:
চোখের পলক পর্যবেক্ষণ: সাধারণ মানুষ কথা বলার সময় প্রতি ২ থেকে ১০ সেকেন্ড পরপর স্বাভাবিকভাবে চোখের পলক ফেলে। কিন্তু অনেক ডিপফেক ভিডিওতে দেখা যায় ব্যক্তির চোখের পলক একদমই পড়ছে না অথবা অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে পড়ছে।
ঠোঁট ও কণ্ঠস্বরের অমিল: ভিডিওতে ব্যক্তির ঠোঁট নাড়ানোর সাথে উচ্চারিত শব্দের সামঞ্জস্য লক্ষ্য করুন। অনেক সময় শব্দের চেয়ে ঠোঁট কিছুটা আগে বা পরে নড়ে (Lip-sync error), যা এআই-এর সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে।
ত্বকের গঠন ও ঝাপসা সীমানা: ডিপফেক ভিডিওতে মানুষের ত্বক অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ বা ‘ব্লাড’ দেখায়। বিশেষ করে গাল বা কপালের ভাঁজগুলো ঠিকমতো ফুটে ওঠে না। এছাড়া কান, চশমার ফ্রেম বা চুলের প্রান্তগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মিশে কিছুটা ঝাপসা মনে হতে পারে।
আলোর প্রতিফলন ও ছায়া: প্রকৃত ভিডিওতে আলোর প্রতিফলন সব সময় সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। কিন্তু ডিপফেক ভিডিওতে চোখের মণির ভেতরের আলোর প্রতিফলন বা চশমার গ্লাসে আলোর আচরণ প্রায়ই প্রাকৃতিক মনে হয় না।
কৃত্রিম আবেগ ও অভিব্যক্তি: এআই এখনো মানুষের সূক্ষ্ম আবেগ বা অভিব্যক্তিগুলো পুরোপুরি নকল করতে পারে না। যদি দেখেন ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির হাসলে চোখের কোণে ভাঁজ পড়ছে না বা কথা বলার ধরণ কিছুটা ‘রোবটিক’ মনে হচ্ছে, তবে সেটি ডিপফেক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ব্যাকগ্রাউন্ডের অস্বাভাবিকতা: ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড যদি অস্বাভাবিকভাবে কাঁপতে থাকে বা মুখ নাড়ানোর সময় ভিডিওর ফ্রেম হঠাৎ করে কেঁপে ওঠে (Glitch), তবে নিশ্চিত হোন এটি প্রযুক্তির কারসাজি।