হটাৎ করেই কাজের সময় দেখা যাই স্মার্টফোন হ্যাং হয়ে যাই। এই হ্যাং হওয়া বা ধীরগতিতে কাজ করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম বিরক্তিকর সমস্যা। বিশেষ করে মিড-রেঞ্জ বা এন্ট্রি-লেভেলের ফোনে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে অনেকেই জানেন না, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের লুকানো ‘ডেভেলপার অপশনে’ এমন কিছু সেটিংস রয়েছে, যা পরিবর্তন করলেই ফোনের গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আপনার ফোনের পারফরম্যান্স কয়েক গুণ বাড়িয়ে নিতে নিচের ৪টি সেটিংস পরিবর্তন করতে পারেন…
* স্মার্টফোনে আমরা যখন একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করি, তখন সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে এবং র্যামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফোনের ডেভেলপার অপশনে গিয়ে ‘Background Process Limit’ খুঁজে বের করুন। এটি ডিফল্ট মোড থেকে বদলে ‘At most 2 processes’ বা তার কম করে দিন। এতে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলবে না এবং ফোন অনেক হালকা থাকবে।
* অ্যান্ড্রয়েড ফোন প্রতিটি ছোটখাটো কার্যকলাপের লগ বা রেকর্ড রাখে। ডিফল্টভাবে এই বাফারের আকার বড় থাকায় তা প্রসেসর ও মেমোরিতে অতিরিক্ত চাপ ফেলে। এটি ‘Logger buffer sizes’ অপশনে গিয়ে ২৫৬কে (256k) বা ৬৪কে (64k)-তে কমিয়ে আনলে ফোনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
* একটি অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়ার সময় বা মেনু ওপেন করার সময় ফোনে এক ধরনের অ্যানিমেশন দেখা যায়। এটি দেখতে সুন্দর হলেও পুরনো বা কম দামী ফোনকে ধীর করে দেয়। ডেভেলপার অপশনে থাকা ‘Window animation scale’, ‘Transition animation scale’ এবং ‘Animator duration scale’ এই তিনটি অপশন ১এক্স (1x) থেকে কমিয়ে ০.৫এক্স (0.5x) করে দিন অথবা পুরোপুরি বন্ধ (Off) করে দিন। এতে ফোন আগের চেয়ে অনেক দ্রুত রেসপন্স করবে।
* যদি আপনার ফোনের ডিসপ্লে উচ্চ রিফ্রেশ রেট (যেমন ৯০ হার্টজ বা ১২০ হার্টজ) সাপোর্ট করে এবং আপনার ব্যাটারি নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা না থাকে, তবে এই সেটিংটি চালু করতে পারেন। এটি চালু থাকলে ফোন সর্বদা সর্বোচ্চ রিফ্রেশ রেটে কাজ করবে, ফলে ফেসবুক বা ইউটিউবে স্ক্রলিং করার সময় অত্যন্ত মসৃণ বা ‘স্মুথ’ অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে।