Monday 16 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যে দিনে আলোয় ভরে উঠেছিল আরবের মরুভূমি

সানজিদা যুথী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৬ মার্চ ২০২৬ ১৮:৫১

ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন হলো ১২ রবিউল আউয়াল। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে আরবের অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে এই দিনেই আগমন ঘটে এমন এক মহান ব্যক্তিত্বের, যিনি বদলে দেন মানবতার গতিপথ। ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)— যিনি মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

সে সময় আরব সমাজ ছিল জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত। নারী অবমাননা, গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, সামাজিক বৈষম্য, দাসপ্রথা ও নানান অবিচারে ভরা ছিল সেই সময়ের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর প্রথাও তখন প্রচলিত ছিল। এমন এক পরিস্থিতিতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেন শান্তি, ন্যায়, সাম্য ও মানবতার বার্তা নিয়ে।

বিজ্ঞাপন

ইতিহাস থেকে জানা যায়, নবীজি (সা.) জন্মগ্রহণের আগেই তার পিতা হযরত আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। তার মাতা ছিলেন হযরত আমিনা (রা.)। জন্মের পর কিছুদিন মায়ের স্নেহে বেড়ে উঠলেও মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি মাতৃহারা হন। এরপর তার দাদা হযরত আবদুল মুত্তালিব এবং পরে চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে বড় হন তিনি।

৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মহানবী (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হয় প্রথম ওহী। সেখান থেকেই শুরু হয় ইসলামের দাওয়াত। দীর্ঘ ২৩ বছরের নবুয়ত জীবনে তিনি মানুষকে আহ্বান জানান এক আল্লাহর ইবাদত, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের পথে। এই সময়েই ধীরে ধীরে অবতীর্ণ হয় পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোরআন, যা মুসলমানদের জন্য জীবনব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত।

মহানবী (সা.) শুধু একজন ধর্মীয় নেতা নন; তিনি ছিলেন একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক, বিচারক, সেনাপতি ও মানবতার পথপ্রদর্শক। তার জীবনাদর্শ, নৈতিকতা, ক্ষমাশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ আজও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জন্য অনুকরণীয়।

ইতিহাসের আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো— যে দিনে তার জন্ম, সেই ১২ রবিউল আউয়ালেই ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মদিনা নগরীতে তার ইন্তেকাল মুসলিম বিশ্বের জন্য এক গভীর শোকের দিন হয়ে আছে।

তবে তার রেখে যাওয়া শিক্ষা ও আদর্শ আজও মানবতার জন্য এক উজ্জ্বল পথপ্রদর্শক। শান্তি, সহমর্মিতা, ন্যায় ও মানবিকতার যে বার্তা তিনি পৃথিবীকে দিয়েছিলেন, তা যুগে যুগে মানুষকে আলোর পথে চলার অনুপ্রেরণা।

সারাবাংলা/এসজে/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সানজিদা যুথী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর