সেন্ট জোসেফ ডে বা সেন্ট জোসেফের ভোজ উৎসব প্রতি বছর ১৯ মার্চ অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হয়। ক্যাথলিক খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি বিশেষ মাহাত্ম্য রাখলেও, আধুনিক বিশ্বে এটি একটি বর্ণিল সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ইতালি, স্পেন এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে এই দিনটি ঘিরে থাকে নানা মজার আয়োজন। এটি কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং পরিবার আর বন্ধুদের নিয়ে মেতে ওঠার এক অনন্য উপলক্ষ।
ফাদার্স ডের আদি রূপ
অনেক দেশে সেন্ট জোসেফ ডেই মূলত আসল ‘বাবা দিবস’ হিসেবে পরিচিত। যিশু খ্রিস্টের পালক পিতা জোসেফকে সম্মান জানাতেই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। ইতালিতে এদিন সন্তানদের তাদের বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে দেখা যায়। মজার ব্যাপার হলো, আধুনিক জুন মাসের বাবা দিবসের অনেক আগে থেকেই এই ঐতিহ্য চলে আসছে। বাবারা এদিন পরিবারের মধ্যমণি হয়ে থাকেন এবং বিশেষ উপহার বা ভোজের মাধ্যমে তাদের আপ্যায়ন করা হয়।
লাল পোশাকের বাহার
এই দিনের একটি মজার দৃশ্য হলো চারদিকে লাল রঙের আধিক্য। সেন্ট জোসেফ ডে-তে লাল পোশাক পরা একটি অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, লাল রঙ হলো ভক্তি এবং আনন্দের প্রতীক। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মানুষের পরনে লাল স্কার্ফ, হ্যাট বা শার্ট দেখে মনে হতে পারে যেন কোনো কার্নিভাল চলছে। এমনকি ঘরের সাজসজ্জাতেও লালের ছোঁয়া রাখা হয় যাতে উৎসবের আমেজ পূর্ণতা পায়।
সিপোলি আর জেপোলির স্বাদ
খাবার ছাড়া কোনো উৎসবই পূর্ণ হয় না, আর সেন্ট জোসেফ ডের প্রধান আকর্ষণ হলো ‘জেপোলি’। এটি মূলত ইতালীয় ঘরানার একটি বিশেষ পেস্ট্রি বা ডোনাট, যার ওপর ক্রিম এবং চেরি ফল দিয়ে সাজানো থাকে। এই মিষ্টিটি এতটাই জনপ্রিয় যে এদিন পাড়ার প্রতিটি বেকারিতে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। এছাড়া ঐতিহাসিকভাবে এই দিনে মাছ এবং সবজির প্রাধান্য বেশি থাকে, কারণ এটি ইস্টার উৎসবের আগের সংযম পর্ব বা লেন্ট পিরিয়ডের মধ্যে পড়ে।
আতিথেয়তার বিশেষ টেবিল
এই উৎসবের অন্যতম সুন্দর দিক হলো ‘সেন্ট জোসেফ টেবিল’ সাজানো। অনেকে তাদের বাড়ির আঙিনায় বা গির্জার সামনে বিশাল টেবিল সাজিয়ে খাবারের আয়োজন করেন। এই আয়োজনের বৈশিষ্ট্য হলো এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে যে কেউ এসে এই টেবিলে খাবার গ্রহণ করতে পারেন। বিশেষ করে অভাবীদের সাহায্য করার যে মহানুভবতা জোসেফ দেখিয়েছিলেন, তাকে স্মরণ করতেই এই সামাজিক ভোজের আয়োজন করা হয়।