Thursday 19 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্বপ্নের নির্দেশনা থেকে আজানের সূচনা

সানজিদা যুথী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৯ মার্চ ২০২৬ ১৮:৪২

দিনে পাঁচবার পৃথিবীর আকাশে ভেসে ওঠে এক পবিত্র আহ্বান— ‘আল্লাহু আকবার… আল্লাহু আকবার…’। এই ধ্বনি শুধু নামাজের ডাক নয়, বরং ঈমানের এক অনন্য ঘোষণা।

কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন— ইসলামে এই আজানের সূচনা হলো কীভাবে? আর কে ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মুয়াজ্জিন?

ইসলামের ইতিহাসে আজানের সূচনা নিয়ে কয়েকটি মতামত রয়েছে। কিছু আলেমের মতে, মেরাজের রাতে সর্বপ্রথম আজানের সূচনা হয়। তখন মসজিদুল আকসায় হজরত জিবরাইল (আ.) আজান ও ইকামত দেন এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সব নবীকে নিয়ে নামাজ আদায় করেন।

আবার কারও মতে, হিজরতের আগে মক্কাতেই আজানের প্রচলন হয়েছিল।

তবে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মত হলো— মদিনায় হিজরতের পর, মসজিদে নববী নির্মাণের পর প্রথম হিজরিতে আজানের সূচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

তখন একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে— নামাজের সময় হলে মুসলমানদের কীভাবে একত্র করা হবে?

সাহাবিরা বিভিন্ন পরামর্শ দিলেন। কেউ বললেন পতাকা ওড়ানো হোক, কেউ বললেন শিঙ্গা বাজানো হোক, আবার কেউ ঘণ্টা বাজানোর পরামর্শ দিলেন।

কিন্তু এগুলোর কোনোটিই রাসুলুল্লাহ (সা.) পছন্দ করলেন না।

এরই মধ্যে এক সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ (রা.) এক আশ্চর্য স্বপ্ন দেখলেন। স্বপ্নে এক ব্যক্তি তাকে আজান ও ইকামতের বাক্যগুলো শিখিয়ে দেন। পরদিন ভোরে তিনি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বিষয়টি জানান।

এ কথা শুনে রাসুল (সা.) বললেন—এটি একটি সত্য স্বপ্ন। এরপর তিনি বললেন— ‘বিলাল! ওঠো, এবং আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ তোমাকে যেভাবে শিখিয়েছে সেভাবে আজান দাও।’

আর সেই নির্দেশেই ইসলামের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আকাশে ধ্বনিত হলো আজানের পবিত্র আহ্বান। ইতিহাসের সেই প্রথম মুয়াজ্জিন ছিলেন— হজরত বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)।

সেদিন থেকে আজান শুধু নামাজের ডাক নয়— বরং এটি হয়ে উঠেছে ইসলামের পরিচয়, ঈমানের ঘোষণা এবং মুসলমানদের ঐক্যের এক চিরন্তন প্রতীক।

বিজ্ঞাপন

আরো

সানজিদা যুথী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর