Friday 20 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মহাজাগতিক রহস্য আর মজার এক অদ্ভুত আয়োজন এলিয়েন অপহরণ দিবস

ফারহানা নীলা সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২০ মার্চ ২০২৬ ১২:৪০

মহাবিশ্বে আমরা কি শুধুই একা? এই প্রশ্নটি মানবসভ্যতাকে যুগ যুগ ধরে তাড়িয়ে বেরিয়েছে। কল্পবিজ্ঞান প্রেমী আর রহস্যঘেরা মহাকাশ নিয়ে যারা ভাবেন, তাদের জন্য ২০ মার্চ একটি বিশেষ দিন। এই দিনটি বিশ্বজুড়ে ‘এলিয়েন অপহরণ দিবস’ বা ‘এলিয়েন অ্যাবডাকশন ডে’ হিসেবে পরিচিত। দিনটি শুনতে কিছুটা ভুতুড়ে বা রহস্যময় মনে হলেও, এর পালনের ধরণ এবং পেছনের গল্পগুলো বেশ মজার এবং তথ্যবহুল।

দিবসের পটভূমি ও মজার সূচনা

এই দিবসটির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি স্বীকৃতি নেই। মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে এবং কল্পবিজ্ঞান ভক্তদের হাত ধরে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মহাকাশ নিয়ে মানুষের কৌতুহলকে একটু ঝালিয়ে নেওয়া এবং এলিয়েন সংক্রান্ত পপ কালচারের মজার দিকগুলো উদযাপন করা। অনেকে মনে করেন, ২০০৮ সালে টরন্টোতে প্রথমবার এই দিনটি ঘটা করে পালন করা শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর ২০ মার্চ এলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এলিয়েন ও ইউএফও নিয়ে নানারকম চর্চা শুরু হয়। তবে দিনটি ভয়ের চেয়ে বেশি বিনোদনের খোরাক জোগায়।

বিজ্ঞাপন

কেন ২০ মার্চ তারিখটি বেছে নেওয়া হলো

এলিয়েন অপহরণ দিবসের জন্য ২০ মার্চ তারিখটি বেছে নেওয়ার পেছনে মজার একটি যুক্তি রয়েছে। উত্তর গোলার্ধে এই দিনটি সাধারণত বসন্ত বিষুব বা স্প্রিং ইকুইনক্সের কাছাকাছি পড়ে। দিন ও রাত সমান হওয়ার এই সময়টিকে প্রাচীনকাল থেকেই রহস্যময় এবং অলৌকিক ঘটনার জন্য আদর্শ মনে করা হতো। এছাড়া কল্পবিজ্ঞান লেখকদের মতে, মহাকাশের সাথে পৃথিবীর সংযোগ স্থাপনের জন্য এই সময়টি জ্যোতির্বিজ্ঞানগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই মহাজাগতিক প্রাণীদের পৃথিবীতে আসার কাল্পনিক গল্পের জন্য এই তারিখটিকেই সবচেয়ে মানানসই বলে ধরে নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাস ও জনশ্রুতির মেলবন্ধন

ভিনগ্রহী প্রাণী দ্বারা মানুষ অপহৃত হওয়ার বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত না হলেও পপ কালচারে এর বিশাল প্রভাব রয়েছে। ১৯ শতকের শেষভাগ থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীতে বার্নি এবং বেটি হিল দম্পতির আলোচিত অপহরণের কাহিনী এই জল্পনা-কল্পনাকে আরও উসকে দেয়। মূলত এই ধরণের অদ্ভুত অভিজ্ঞতার দাবিদারদের গল্পগুলো এবং হলিউড সিনেমাগুলোতে এলিয়েনদের যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই দিবসের ধারণাটি গড়ে উঠেছে। এটি একাধারে বিজ্ঞানের বাইরের জগতের প্রতি মানুষের আকুলতা এবং অজানা রহস্যের প্রতি আমাদের চিরন্তন আকর্ষণের বহিঃপ্রকাশ।

যেভাবে পালিত হয় এই অদ্ভুত দিনটি

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনটি পালনের পদ্ধতি বেশ বৈচিত্র্যময়। অনেক দেশে কল্পবিজ্ঞান প্রেমীরা এলিয়েনের পোশাক পরে শোভাযাত্রা বের করেন। আবার অনেকে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মহাকাশ বিষয়ক সিনেমা দেখেন। বিশেষ করে ‘ই.টি.’, ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অফ দ্য থার্ড কাইন্ড’ বা ‘ম্যান ইন ব্ল্যাক’-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো এই দিনে নতুন করে জনপ্রিয়তা পায়। কিছু কিছু জায়গায় এলিয়েন থিমের পার্টি বা আড্ডার আয়োজন করা হয় যেখানে মহাকাশ গবেষণা এবং ভিনগ্রহী প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে হালকা মেজাজে আলোচনা চলে। আবার যারা একটু শান্তভাবে দিনটি কাটাতে চান, তারা টেলিস্কোপ নিয়ে রাতের আকাশে ইউএফও খোঁজার বৃথা কিন্তু রোমাঞ্চকর চেষ্টা চালান।

মহাকাশ গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি

মজার ছলে পালিত হলেও এই দিবসটি পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং মহাকাশ গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। নাসা কিংবা সেটির (SETI) মতো সংস্থাগুলো যেভাবে মহাবিশ্বে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজছে, এই দিনটি সেই বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার গুরুত্বকেও সামনে নিয়ে আসে। যদিও অপহরণের গল্পগুলো কেবলই কল্পনাপ্রসূত, কিন্তু আমাদের এই বিশাল মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্যালাক্সিতে প্রাণ থাকার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এলিয়েন অপহরণ দিবসটি মানুষকে নিছক ভয় দেখানোর পরিবর্তে অজানাকে জানার এক নতুন অনুপ্রেরণা জোগায়।

বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর