শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ ওঠার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটেছে সিয়াম সাধনার পবিত্র মাস রমজানের। মাসব্যাপী সংযম ও ইবাদতের পর মুসলিম উম্মাহ উদযাপন করেছে ঈদুল ফিতর। তবে রমজান বিদায় নিলেও এর আধ্যাত্মিক শিক্ষা যেন আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বছরের বাকি ১১টি মাসও নিজেকে পুণ্যময় রাখতে কিছু আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আসুন জেনে নেই সেই সব গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল…
তাকওয়ার চর্চা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা
রমজান আসার অন্তত দুই মাস আগে (রজব ও শাবান মাস) থেকেই মুমিনরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। এরপর পুরো একটি মাস রোজা, তারাবি ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ঈদ শেষ হতেই অনেকের ইবাদতের উৎসাহে ভাটা পড়ে। রমজানের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন এর অর্জিত শিক্ষা বাকি দিনগুলোতেও ধরে রাখা যাবে। আজ থেকেই সংকল্প করুন, যেসব পাপ রমজানে ছেড়েছিলেন, তা আর কখনোই করবেন না।
আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করা
রমজান আমাদের সহমর্মিতা ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। ঈদের এই আমেজকে কাজে লাগিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেওয়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। স্বজনদের বাড়িতে সশরীরে যাওয়া কিংবা সাধ্যমতো উপহার পাঠানো পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ায়। ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।
শাওয়াল মাসের ৬ রোজা আদায়
রমজান পরবর্তী সবচেয়ে বড় আমল হলো শাওয়ালের নফল ৬টি রোজা। এই রোজাগুলোর ফজিলত অসীম। আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন:
‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৪)
বড় বড় সওয়াবের আশায় এই মাসে সুবিধাজনক সময়ে ৬টি রোজা পূর্ণ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে নিয়মিত হওয়া
রমজানে মসজিদগুলো মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। অথচ ঈদের পর অনেককেই অলসতাবশত নামাজে অনিয়মিত হতে দেখা যায়। মনে রাখা প্রয়োজন, নামাজ কোনো নির্দিষ্ট মাসের ইবাদত নয়, এটি প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর আজীবন ফরজ। রমজানের সেই জামাতে নামাজ পড়ার অভ্যাসটি সারা বছর ধরে রাখার প্রতিজ্ঞা করুন এখনই।
ছুটে যাওয়া (কাজা) রোজা দ্রুত পূরণ
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২৯ বা ৩০টি রোজা রাখা প্রত্যেক সুস্থ মুসলিমের ওপর ফরজ। তবে বিশেষ কোনো শরয়ী কারণে (অসুস্থতা বা সফর) যদি কারও রোজা ছুটে যায়, তবে তা পরে আদায় করা বাধ্যতামূলক। এই ঋণের বোঝা মাথায় না রেখে বছরের শুরুতেই, অর্থাৎ রমজান পরবর্তী সময়ে যত দ্রুত সম্ভব এই কাজা রোজাগুলো শোধ করে দেয়া উচিত।