পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের মূল শর্ত হলো সঠিক উপায়ে পবিত্রতা অর্জন করা। তবে মক্কা-মদিনায় প্রচণ্ড ভিড়, তীব্র গরম আর শারীরিক ক্লান্তির কারণে অনেক সময় অজু করার ক্ষেত্রে আমরা অসতর্ক হয়ে পড়ি। অজুর ফরজের কোনো এক জায়গায় সামান্য শুকনো থাকলেও নামাজ ও তাওয়াফ কবুল হয় না। তাই হাজিদের জন্য অজুর সাধারণ কিছু ভুল ও তার প্রতিকার জেনে রাখা জরুরি।
কনুই ঠিকমতো না ধোয়া
অজুর প্রধান একটি ফরজ হলো দুই হাত কনুইসহ ধোয়া। বিশেষ করে ইহরামের চাদর বা গায়ের পোশাকের কারণে অনেক সময় হাতের ওপরের অংশ বা কনুইয়ের ভাঁজ শুকনো থেকে যায়। অজু করার সময় নিশ্চিত করুন যে, পানি কনুইয়ের শেষ সীমানা পর্যন্ত ভালোভাবে পৌঁছেছে।
পায়ের গোড়ালিতে পানি না পৌঁছানো
ভিড়ের মধ্যে দ্রুত অজু করতে গিয়ে হাজিদের সবচেয়ে বেশি ভুল হয় পায়ের গোড়ালি ধোয়ায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) অজুর সময় শুকনো গোড়ালি সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পা ধোয়ার সময় অবশ্যই গোড়ালি ও এর পেছনের অংশ ঘষে পানি পৌঁছাতে হবে।
আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছাতে অবহেলা
হাত ও পায়ের আঙুলগুলো যদি একটির সঙ্গে আরেকটি লেগে থাকে, তবে শুধু ওপর দিয়ে পানি ঢাললে ভাঁজের ভেতর শুকনো থাকতে পারে। তাই অজুর সময় আঙুলগুলো ‘খিলাল’ করা বা আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করা জরুরি।
টাইট আংটি বা ঘড়ির বাধা
হাতে যদি খুব টাইট আংটি থাকে, তবে তার নিচে চামড়া শুকনো থাকার সম্ভাবনা থাকে। অজুর সময় আংটিটি একটু ঘুরিয়ে বা সরিয়ে নিতে হবে যাতে ভেতরে পানি পৌঁছায়। ইহরাম ছাড়া অন্য সময় টাইট হাতঘড়ি থাকলেও একই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
নখের কোণে ময়লা থাকা
সফরের কারণে অনেক সময় নখ বড় হয়ে যায় বা নখের কোণে কাদা/ময়লা জমে শক্ত হয়ে থাকতে পারে। এমনটা হলে সেখানে পানি পৌঁছায় না। অজুর আগেই নখের কোণ পরিষ্কার আছে কি না তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
হাজিদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ
তাড়াহুড়ো বর্জন করুন: হারামের ভিড়ে অজুর জন্য তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরভাবে কাজ শেষ করুন।
মনোযোগ দিন: প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার পর অন্তত একবার নিশ্চিত হোন যে সব জায়গায় পানি লেগেছে।
পর্যাপ্ত সময় নিন: তাওয়াফ বা নামাজের আগে অজুর জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে অজুখানা বা হোটেলে অজুর কাজ শেষ করুন।
মনে রাখবেন, অজু হলো ইবাদতের চাবিকাঠি। চাবিকাঠি ঠিক না থাকলে আপনার দীর্ঘ সফর ও পরিশ্রমের মূল ইবাদতটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।