Wednesday 20 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ভুল ক্রমে উল্টোদিক থেকে সাঈ শুরু করলে প্রতিকারের উপায়

সারাবাংলা ডেস্ক
২০ মে ২০২৬ ১৬:২৭

‎ইসলামী শরীয়তে হজ ও ওমরাহ পালনের ক্ষেত্রে ‘সাঈ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব আমল। সাফা পাহাড় থেকে শুরু করে মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে সাতবার যাতায়াত করাই হলো এর বিধান। তবে রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে অনেক সময় ভুলবশত অনেকেই মারওয়া পাহাড় থেকে সাঈ শুরু করে ফেলেন।

আসুন জেনে নেই এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের সমাধান এবং শরয়ী বিধানগুলো কি…

‎সাঈর প্রারম্ভিক বিন্দু: সাফা না মারওয়া?

‎সাঈর প্রতিটি চক্কর অবশ্যই সাফা পাহাড় থেকে শুরু হতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সাফা পাহাড়ের নাম আগে উল্লেখ করেছেন (সূরা বাকারা: ১৫৮)। এছাড়া বিদায় হজের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) সাফা পাহাড় থেকেই দৌড়ানো শুরু করেছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘আমি তা দিয়েই শুরু করছি, যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।’

‎তাই মারওয়া থেকে সাঈ শুরু করা সুন্নাহ ও নিয়ম পরিপন্থী।

‎পরিস্থিতির ভিত্তিতে করণীয় ও মাসআলা

বিজ্ঞাপন

‎যদি কেউ ভুলবশত উল্টো দিক (মারওয়া) থেকে সাঈ শুরু করেন, তবে সময়ের ওপর ভিত্তি করে এর সমাধান ভিন্ন হতে পারে…

‎১. সাঈ চলাকালীন মনে পড়লে

‎আপনি যদি সাঈ করা অবস্থায় বুঝতে পারেন যে মারওয়া থেকে শুরু করেছেন, তবে বিচলিত হবেন না। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো:

* ‎মারওয়া থেকে সাফা পর্যন্ত আসা অংশটুকু ‘শূন্য’ বা বাতিল বলে গণ্য হবে।

‎* ‎সাফা পাহাড়ে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে ১ম চক্কর গণনা শুরু করে মারওয়ার দিকে যাবেন।

* ‎‎এভাবে নতুন করে সাত চক্কর পূর্ণ করবেন।

‎২. সাঈর সাত চক্কর শেষ করার পর মনে পড়লে

‎যদি ভুল পদ্ধতিতে (মারওয়া থেকে শুরু করে) সাত চক্কর শেষ হয়ে যায়, তবে আপনার সাঈ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। হানাফি ফিকহ ও জুমহুর ফুকাহাদের মতে, যেহেতু প্রথম চক্করটি ভুল স্থান থেকে শুরু হয়েছে, তাই এটি শরীয়তসম্মত হয়নি।

‎সমাধান: আপনাকে পুনরায় সাফা থেকে শুরু করে নতুনভাবে সাতটি চক্কর সম্পন্ন করতে হবে। এটিই হলো অধিকতর নিরাপদ ও সতর্কতা (ইহতিয়াত) অবলম্বন।

‎৩. মক্কা ত্যাগ করার পর মনে পড়লে

‎হারামের সীমানা বা মক্কা ছেড়ে আসার পর যদি এই ভুল ধরা পড়ে, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিতে হবে:

‎সম্ভব হলে পুনরায় হারামে ফিরে গিয়ে সাঈ আদায় করে নেওয়া উত্তম।

‎ফিরে আসা অসম্ভব হলে, ওয়াজিব ত্যাগের কারণে একটি ‘দম’ (পশু কোরবানি) দেওয়া আবশ্যক হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত অপারগতা বা বিশেষ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া জরুরি।

‎কেন এই সতর্কতা জরুরি?

‎সাঈ নিছক কোনো ব্যায়াম বা হাঁটা নয়, এটি একটি ইবাদত। ইবাদতের শুদ্ধতার জন্য রাসুল (সা.) প্রদর্শিত পদ্ধতির অনুসরণ অপরিহার্য। ভুল করে উল্টো দিক থেকে শুরু করলে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তা সংশোধন করে নেওয়াই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

‎সাঈর সঠিক নিয়ম হলো, সাফা থেকে মারওয়া (১ম চক্কর) এবং মারওয়া থেকে সাফা (২য় চক্কর)। এভাবে সপ্তম চক্করটি মারওয়া পাহাড়ে গিয়ে শেষ হবে। হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ সফরে ছোটখাটো ভুল যেন ইবাদতের পূর্ণতায় বাধা না হয়, সেজন্য সচেতন থাকা জরুরি। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল, যদি তা সঠিক সময়ে শরয়ী পদ্ধতিতে সংশোধন করে নেয়া হয়।