ইসলামে কোরবানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ইবাদত। আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সামর্থ্যবান মুসলমানরা প্রতি বছর জিলহজ মাসে পশু কোরবানি করে থাকেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরতের পর থেকে প্রতি বছরই নিয়মিত কোরবানি দিয়েছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী (সা.) মদিনার ১০ বছরের জীবনে কখনো কোরবানি বাদ দেননি (তিরমিজি)।
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখের সূর্যাস্ত পর্যন্ত, এই তিন দিন কোরবানির নির্ধারিত সময়। এর মধ্যে প্রথম দিন কোরবানি করা সবচেয়ে উত্তম। কোনো কারণে প্রথম দিন সম্ভব না হলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনেও তা করা যায়।
তবে কেউ যদি এই নির্দিষ্ট তিন দিনের মধ্যে তার ওয়াজিব কোরবানি সম্পন্ন করতে না পারেন, তবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী তাকে দণ্ড বা সদকা আদায় করতে হবে।
আসুন জেনে নেই, সময়মতো কোরবানি দিতে না পারলে যা যা করবেন:
পশু কেনা না হয়ে থাকলে: যদি কেউ কোরবানির দিনগুলোতে পশু কিনতে না পারার কারণে কোরবানি দিতে ব্যর্থ হন, তবে কোরবানিযোগ্য একটি ছাগল বা ভেড়ার সমপরিমাণ মূল্য দরিদ্রদের মাঝে সদকা বা দান করে দেওয়া তার ওপর ওয়াজিব।
পশু কেনার পর কোরবানি না হলে: কেউ যদি কোরবানির জন্য পশু কিনেছিলেন, কিন্তু কোনো বিশেষ কারণে তা নির্দিষ্ট তিন দিনের মধ্যে জবাই করতে পারেননি, তবে ওই জীবিত পশুই কোনো গরিব মানুষকে দান করে দিতে হবে।
সময়ের পরে জবাই করে ফেললে: কোরবানির দিনগুলো পার হয়ে যাওয়ার পর যদি কেউ ভুলবশত বা অবহেলায় সেই পশু জবাই করে ফেলেন, তবে ওই পশুর মাংস নিজে খাওয়া বা আত্মীয়দের দেওয়া যাবে না। সম্পূর্ণ মাংস অভাবী মানুষকে সদকা করে দিতে হবে। এমনকি জবাইয়ের কারণে যদি জীবিত পশুর তুলনায় মাংসের বাজারমূল্য কমে যায়, তবে যতটুকু মূল্য কমলো, সেই পরিমাণ টাকাও আলাদাভাবে দান করতে হবে।
ইসলামের এই নিয়মগুলো অনুসরণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে কোরবানি করতে না পারার খতিপূরণ বা দায় থেকে মুক্ত হওয়া যায়।