শৈশবের কার্টুন স্মৃতির পাতা ওল্টালেই যে চরিত্রটি আমাদের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে তোলে, সেটি হলো ডোনাল্ড ডাক। নীল রঙের নাবিকের জামা, লাল রঙের বো-টাই আর মাথায় ছোট্ট একটা টুপি পরা এই হাঁসটিকে চেনে না, এমন মানুষ পৃথিবীতে মেলা ভার। প্রতি বছর ৯ জুন বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত আনন্দের সাথে পালিত হয় ‘ডোনাল্ড ডাক ডে’। আপাতদৃষ্টিতে এটি কেবল একটি কার্টুন চরিত্রের জন্মদিন মনে হলেও, বিশ্ব পপ কালচারে এর প্রভাব কিন্তু বিশাল। নিখুঁত ও মার্জিত মিকি মাউসের চেয়ে এই খামখেয়ালী, দ্রুত রেগে যাওয়া আর অদ্ভুত গলায় কথা বলা ডোনাল্ড ডাককে মানুষ নিজের জীবনের সাথে অনেক বেশি মেলাতে পেরেছে। আজ ৯ জুন, ডোনাল্ডের সেই প্রথম পর্দায় ডানা মেলার ঐতিহাসিক দিনটিকে উদযাপন করার এবং তার মজার দুনিয়ায় ডুব দেওয়ার এক দারুণ সুযোগ।
দ্য ওয়াইজ লিটল হেন এবং একটি কিংবদন্তির জন্ম
আজ থেকে ঠিক ৯২ বছর আগে, ১৯৩৪ সালের ৯ জুন ডিজনির বিখ্যাত ‘সিলি সিম্ফনি’ সিরিজের ‘দ্য ওয়াইজ লিটল হেন’ নামের একটি ছোট অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে ডোনাল্ড ডাক প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। সেই গল্পে একটি মা মুরগি তার ভুট্টা রোপণ ও কাটার জন্য অলস ডোনাল্ডের সাহায্য চেয়েছিল, কিন্তু ডোনাল্ড পেটে ব্যথার বাহানা দেখিয়ে কাজ ফাঁকি দেয়। প্রথম দেখাতেই ডোনাল্ডের সেই অদ্ভুত খসখসে কণ্ঠস্বর এবং মজার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি দর্শকদের মন জয় করে নেয়। কণ্ঠশিল্পী ক্ল্যারেন্স ন্যাশ নিজের মুখের বিশেষ কৌশলে ডোনাল্ডের সেই বিখ্যাত ‘কোয়াক কোয়াক’ কণ্ঠটি তৈরি করেছিলেন, যা কার্টুন ইতিহাসের অন্যতম সেরা কণ্ঠশৈলী হিসেবে আজো স্বীকৃত। প্রথম ছবিতেই ডোনাল্ডের জনপ্রিয়তা মিকি মাউসকেও একপ্রকার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে ডিজনি তাকে পরবর্তীতে তাদের প্রধান চরিত্রগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
মিকি মাউস যেখানে সবসময় শান্ত, বুদ্ধিমান এবং আদর্শ চরিত্রের প্রতীক, ডোনাল্ড ডাক সেখানে আমাদের মতো এক সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষের (কিংবা বলা ভালো, হাঁসের) বাস্তব রূপ। সে খুব দ্রুত রেগে যায়, ছোটখাটো বিষয়ে তার মেজাজ বিগড়ে যায় এবং জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজেই সে কোনো না কোনো গ্যাঁড়াকলে পড়ে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ডোনাল্ডের সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে শত ব্যর্থতার পরেও কখনো হাল ছাড়ে না; বারবার বুক ফুলিয়ে উঠে দাঁড়ায়। ডোনাল্ডের এই রাগচটা কিন্তু পরোপকারী স্বভাব, তার তিন ভাগ্নে হাইউই, ডিউই আর লুইয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং ডেজি ডাকের সাথে তার মিষ্টি রসায়ন তাকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের প্রিয় করে তুলেছে। হলিউড ওয়াক অফ ফেমে নিজস্ব তারকা পাওয়া থেকে শুরু করে অস্কার জয়, সব জায়গাতেই এই রাগী হাঁসটি তার সাফল্যের ডানা মেলেছে। তাই ৯ জুনের এই বিশেষ দিনটিতে ডোনাল্ড ডাকের কার্টুন দেখে বা তার মতো করে অদ্ভুত গলায় কথা বলার চেষ্টা করে বিশ্ববাসী এই প্রিয় চরিত্রটিকে ভালোবাসা জানায়।