গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে কেবল আমাদের জনজীবনই বিপর্যস্ত হয় না, অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে গাড়ির ইঞ্জিনের ওপরও মারাত্মক চাপ পড়ে। একটু অসতর্ক হলেই ইঞ্জিন বিকল হওয়া, টায়ার বিস্ফোরণ কিংবা এয়ার কন্ডিশন নষ্ট হওয়ার মতো বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গরমের এই দিনগুলোতে গাড়িকে সচল ও নিরাপদ রাখতে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
কুল্যান্ট ও ফ্লুইডের ভারসাম্য: ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত উত্তাপ থেকে বাঁচাতে কুল্যান্টের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাই নিয়মিত রেডিয়েটরের কুল্যান্ট লেভেল পরীক্ষা করুন। তবে মনে রাখবেন, ইঞ্জিন গরম থাকা অবস্থায় ভুলেও রেডিয়েটরের ক্যাপ খুলবেন না। এর পাশাপাশি ব্রেক ফ্লুইড, পাওয়ার স্টিয়ারিং ফ্লুইড এবং উইন্ডশিল্ড ওয়াশার ফ্লুইডের পরিমাণও ঠিক আছে কি না দেখে নিন।
ইঞ্জিন অয়েলের গুণগত মান: প্রচণ্ড গরমে ইঞ্জিন অয়েল দ্রুত পাতলা ও কার্যকারিতাহীন হয়ে পড়ে, যার ফলে ইঞ্জিনের ভেতরের পার্টসগুলোর ঘর্ষণ বেড়ে যায়। অয়েল নষ্ট হয়ে স্লাজ বা ময়লা জমে যেন ইঞ্জিনের ক্ষতি না হয়, সেজন্য নিয়মিত মোবিলের স্তর ও মান চেক করুন এবং সময়মতো বদলে ফেলুন।
টায়ারের প্রেশার ও কন্ডিশন চেক করুন: উত্তপ্ত পিচঢালা রাস্তায় গাড়ি চললে চাকার ভেতরের বাতাস প্রসারিত হয়ে প্রেশার অনেক বেড়ে যায়, যা টায়ার ফেটে যাওয়ার প্রধান কারণ। তাই নিয়মিত চাকার এয়ার প্রেশার মাপুন। চাকার ট্রেড ক্ষয়ে গেছে কি না বা কোথাও ফুলে উঠেছে কি না তা লক্ষ্য রাখুন এবং গরমের উপযোগী টায়ার ব্যবহার করুন।
এসি (AC) সার্ভিসিং: গরমের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য এয়ার কন্ডিশন সিস্টেমটি শতভাগ সচল থাকা চাই। এসি ফিল্টার পরিষ্কার রাখা, কুলিং ফ্যান চেক করা এবং প্রয়োজনে গ্যাস রিফিল বা রিগ্যাসিং করার মাধ্যমে এসি-র পারফরম্যান্স ঠিক রাখুন।
সরাসরি রোদ থেকে গাড়িকে বাঁচানো: গাড়ি পার্কিংয়ের সময় সবসময় ছায়াযুক্ত স্থান নির্বাচন করার চেষ্টা করুন। বাধ্য হয়ে রোদে রাখতে হলে উইন্ডশিল্ডে রিফ্লেক্টিভ সানশেড বা হিট-প্রুফ বডি কাভার ব্যবহার করুন। এটি গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং ড্যাশবোর্ড ও বডির রঙের উজ্জ্বলতা নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাবে।
সপ্তাহে অন্তত একবার এই বিষয়গুলো একটু খতিয়ে দেখলে আপনার গাড়িটি যেমন থাকবে একদম ফিট, তেমনই বাঁচবে বড় ধরনের মেরামতের অনাকাঙ্ক্ষিত খরচ।