Wednesday 24 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অপ্রয়োজনীয় কথা: ঈমান ও তাকওয়া দুর্বল হওয়ার মূল কারণ!

সারাবাংলা ডেস্ক
২৪ জুন ২০২৬ ১৯:২১

মানুষের শরীরের ক্ষুদ্রতম এক অঙ্গ জিহ্বা, অথচ এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। একটি কল্যাণকর কথা যেমন মানুষকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নেয়, তেমনই একটি অসতর্ক বাক্য তাকে নিক্ষেপ করতে পারে ধ্বংসের অতল গহ্বরে। ইসলামে অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা থেকে দূরে থাকার ওপর কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কারণ, বাচালতা ও অর্থহীন আড্ডা ধীরে ধীরে হৃদয়ের কোমলতা কেড়ে নেয়। আর অন্তর যখন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর ভয় ও আখেরাতের জবাবদিহিতার অনুভূতি ম্লান হয়ে যায়।

চলুন জেনে নেই, অপ্রয়োজনীয় কথা কীভাবে আমাদের তাকওয়া ও ঈমানকে দুর্বল করে তোলে…

বেশি কথা অন্তরকে কঠিন করে: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আল্লাহর জিকির ছাড়া বেশি কথা বলো না; কারণ তা মানুষের হৃদয়কে কঠিন করে তোলে। আর কঠিন হৃদয়ের মানুষ আল্লাহর রহমত থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে (তিরমিজি)। অন্তর যখন কঠিন হয়, তখন কোরআনের বাণী বা মৃত্যুর স্মরণ মানুষকে আর আলোড়িত করতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

সফল মুমিনের বৈশিষ্ট্য অনর্থক বিষয় বর্জন: সুরা মুমিনুনে আল্লাহ তাআলা সফল মুমিনদের অন্যতম গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তারা অনর্থক কথাকর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। দুনিয়া বা আখেরাতের কোনো কল্যাণ নেই—এমন আলোচনা থেকে নিজেকে দূরে রাখাই ঈমানের দাবি।

কল্যাণকর কথা অথবা নীরবতা: ইসলাম বৈরাগ্য শিক্ষা দেয় না, তবে জিহ্বার অপব্যবহার রোধ করতে বলে। বুখারি ও মুসলিম শরিফের বিখ্যাত হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে, অন্যথায় চুপ থাকে।

একটি অসতর্ক বাক্যই ধ্বংসের কারণ: অনেক সময় আমরা রসিকতা বা গুরুত্বহীন মনে করে এমন কথা বলি যা আল্লাহর চরম অসন্তুষ্টির কারণ হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, মানুষ অনেক সময় না বুঝেই এমন অসন্তোষজনক কথা বলে ফেলে, যার কারণে তাকে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে হয়।

প্রতিটি শব্দের হিসাব দিতে হবে: সুরা কাফের ১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের প্রতিটি উচ্চারণ লিপিবদ্ধ করার জন্য সদা প্রস্তুত প্রহরী বা ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে। তাই মুখের প্রতিটি কথার হিসাব আখেরাতে দিতেই হবে।

জিহ্বার কারণেই অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামী: রাসুলুল্লাহ (স.) সাহাবি মুয়াজ (রা.)-কে সতর্ক করে বলেছিলেন, মানুষকে তাদের জিহ্বার উপার্জনের (পাপের) কারণেই উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে (তিরমিজি)। অর্থাৎ, গিবত, মিথ্যা ও অপবাদের মতো পাপগুলো জিহ্বার মাধ্যমেই ছড়ায়।

সালাফদের অমূল্য উপদেশ: ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে, ‘যার কথা বেশি, তার ভুলও বেশি; যার ভুল বেশি, তার লজ্জা কমে যায়; আর লজ্জা কমলে তাকওয়া কমে এবং একসময় অন্তর মরে যায়।’

বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অন্তহীন আড্ডার ভিড়ে আমরা অনর্থক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছি। এই বাচালতা প্রথমে সাধারণ মনে হলেও তা হৃদয়ের ইবাদতের স্বাদ ও গুনাহ থেকে বাঁচার অনুভূতিকে সম্পূর্ণ মেরে ফেলে। তাই আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতি ধরে রাখতে আমাদের উচিত জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নীরবতার মাঝে আল্লাহর নৈকট্য সন্ধান করা।