Thursday 17 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মৃতদের নিয়ে অশোভন উক্তি: ইসলাম কী বলে?

সারাবাংলা ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:২২

ইসলামের দৃষ্টিতে পরনিন্দা বা গিবত অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) গিবতের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে তোমার এমন কিছু বলা, যা শুনলে সে অসন্তুষ্ট হয়।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আমি যা বলি তা যদি তার মধ্যে সত্যি থাকে? তিনি বললেন, ‘তুমি যা বলো তা তার মধ্যে থাকলে গিবত হলো, আর না থাকলে তাকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হলো।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৭৪)

তাই কোনো মুমিনের জন্য কারো দোষচর্চা করা সমীচীন নয়। কারো ভুল চোখে পড়লে হিকমত ও দরদের সাথে তাকে গোপনে বোঝানো উচিত। তবে যদি কারো অপকর্মের দ্বারা মানুষের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে মানুষকে রক্ষা করার নিয়তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

জীবিত মানুষের পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির ব্যাপারেও মন্দ কথা বলা বা তাদের কটূক্তি করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কারণ, মৃত ব্যক্তি নিজেকে শুধরে নেওয়ার বা ভুল সংশোধনের সুযোগ পায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা মৃতদের গালমন্দ করো না; কেননা তারা তাদের কৃতকর্মের পরিণতির কাছে পৌঁছে গেছে।’ (বুখারি, হাদিস: ১৩৯৩)

মানুষ দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর তার আমলনামা বন্ধ হয়ে যায় এবং সে আল্লাহর কাছে তার হিসাবের মুখোমুখি হয়। তাই মৃত ব্যক্তির দোষচর্চা করে নিজের জিহ্বাকে গুনাহগার করার কোনো অর্থ নেই। পবিত্র কোরআনে গিবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)। এতে স্পষ্ট যে, কোনো মৃত ব্যক্তির ভুল বা মিথ্যা অপবাদ চর্চা করা কত বড় অপরাধ।

তবে শরিয়তসম্মত কোনো বিশেষ প্রয়োজন থাকলে মৃত ব্যক্তির সত্য তথ্য প্রকাশ করা যায়। যেমন, কারো ঋণ, আমানত, সম্পদের অধিকার কিংবা কোনো বড় ক্ষতি থেকে সমাজকে সতর্ক করার প্রয়োজন হলে সত্য গোপন করা যাবে না। তবে সে ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হতে হবে ন্যায়বিচার ও কল্যাণ রক্ষা, বিদ্বেষ বা অপমান নয়।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে উপহাস বা কটূক্তির প্রবণতা বেড়েছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো মৃতদের জন্য দোয়া করা। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে: ‘হে আমাদের রব, আমাদের ও আমাদের পূর্বে যারা ঈমান এনেছে তাদের ক্ষমা করুন এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।’ (সুরা হাশর, আয়াত: ১০)

পরিশেষে, কোনো মৃতের ভালো-মন্দের চূড়ান্ত ফয়সালা মহান আল্লাহর হাতে ন্যস্ত। তাই দুনিয়ার বুকে বসে কারো গালিগালাজ বা চরিত্রহননে লিপ্ত না হয়ে, নিজের আমল সংশোধনে মনোযোগী হওয়া এবং পরলোকগতদের জন্য ক্ষমার আবেদন করাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

এবার ছয় গোল হজম করল বাংলাদেশ
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৭

আরো

সম্পর্কিত খবর