বাইরে থেকে ঘরে ফেরার সময় পরিবারের সদস্যদের সালাম দেওয়া ইসলামি শিষ্টাচার ও সুন্নাহর এক অপরূপ সৌন্দর্য। সালামের মাধ্যমে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়া মানেই একমুঠো শান্তি ও বরকত নিয়ে প্রবেশ করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
‘তোমরা যখন কোনো ঘরে প্রবেশ করবে, তখন পরস্পরের প্রতি সালাম করবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বরকতময় ও পবিত্র অভিবাদন।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৬১)
এই আয়াত থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, নিজের ঘরে ঢোকার সময়ও সালাম দেওয়া মুমিনের এক বিশেষ আমল। ঘরে কেউ উপস্থিত থাকুক কিংবা পরিবারের সদস্যরা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত থাকুক-প্রবেশের মুহূর্তেই স্পষ্ট কণ্ঠে সালাম দেওয়া প্রতিটি সুসংগঠিত ও ধার্মিক পরিবারের অন্যতম সুন্দর অভ্যাস।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সালামের বিস্তার ঘটাতে বিশেষভাবে তাগিদ দিয়ে বলেছেন:
‘তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রচার ও প্রসার করো।’ (সহিহ মুসলিম)
পারিবারিক জীবনে সালামের প্রভাব
ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়ার মধ্যে পারিবারিক শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য গভীর শিক্ষা রয়েছে। সারাদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ বা নানা টানাপোড়েনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। কিন্তু ঘরে ঢোকার মুহূর্তেই সালামের স্নিগ্ধ উচ্চারণ সেই দূরত্ব নিমিষেই কমিয়ে আনে এবং ঘরে তৈরি করে এক আন্তরিক পরিবেশ।
স্বামী স্ত্রীকে,
স্ত্রী স্বামীকে এবং
সন্তানরা বাবা-মাকে সালাম দিলে…
পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মাঝে পারস্পরিক সম্মান, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
ঘরে কেউ না থাকলেও কি সালাম দিতে হবে?
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাড়ি বা ঘরে কেউ উপস্থিত না থাকলেও প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া সুন্নত। কারণ, এমন পরিস্থিতিতে ঘর খালি থাকলেও সেখানে আল্লাহর ফেরেশতা এবং নেক জিনেরা অবস্থান করেন, যারা এই সালামের সুন্দর উত্তর প্রদান করেন।
এ বিষয়ে সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে সুন্দর একটি আমল বর্ণিত রয়েছে। তিনি যখন ঘরে প্রবেশ করতেন এবং দেখতেন ঘরে কেউ নেই, তখন তিনি বলতেন:
‘আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন’
(আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)
পরিশেষে বলা যায়, সালাম কেবল একটি বাক্য বা সম্ভাষণ নয়; এটি পারস্পরিক ভালোবাসা, কল্যাণকামনা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘরজুড়ে বরকত নামিয়ে আনার এক ঐশ্বরিক চাবি। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ঘরে ঢোকার সময় সালাম দেওয়ার এই সুন্দর চর্চাটি যদি আমরা নিজের জীবনে ও পরিবারে লালন করি, তবে আমাদের ঘরগুলো হয়ে উঠবে প্রশান্তি ও সৌহার্দ্যের এক একটি জান্নাতি টুকরো।