ঝকঝকে রাস্তায় বাইকের দুরন্ত গতি কার না ভালো লাগে! কিন্তু এই গতির ছন্দ ঠিক রাখতে বাইকের চেইন পরিষ্কার করতে গিয়ে যে ভয়ংকর বিপদ লুকিয়ে আছে, তা অনেকেরই ধারণার বাইরে। সামান্য একটু তাড়াহুড়ো বা বোকামির খেসারত হিসেবে মুহূর্তের মধ্যে হাত হারাতে হচ্ছে অনেক বাইকারকে। তাই শখের বাইকটি পরিষ্কার করার সময় একটু অতিরিক্ত সচেতনতা না থাকলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
মোটরসাইকেলপ্রেমীদের কাছে চেইন পরিষ্কার ও লুব্রিকেন্ট দেয়া একটি নিয়মিত কাজ (রুটিন ওয়ার্ক)। দীর্ঘদিন ব্যবহারে চেইনে ধুলাবালি ও ময়লা জমে, যা দূর করতে নির্দিষ্ট কিলোমিটার পরপর গ্রিজ বা লুব্রিকেন্ট দিতে হয়। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন পরিষ্কার করার কাজটি ভুল ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে করা হয়।
চিকিৎসকদের তথ্য মতে, চেইন পরিষ্কারের সময় সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে ইঞ্জিনের শক্তিতে স্প্রোকেট ঘুরিয়ে গ্রিজ পরিষ্কার করতে গিয়ে। অনেক চালক বা মেকানিক সময় বাঁচাতে বাইকটি ডাবল স্ট্যান্ডে তুলে ইঞ্জিন স্টার্ট দেন এবং গিয়ারে রেখে এক্সিলারেটর চেপে চেইন ঘোরাতে থাকেন। এরপর ঘুরন্ত চেইনে কাপড় বা ব্রাশ চেপে ধরে কিংবা হাত দিয়ে গ্রিজ মুছতে যান। এই অসাবধানতার ফলেই হাত পিছলে সেকেন্ডের মধ্যে আঙুল ঢুকে যায় চেইন ও স্প্রোকেটের খাঁজে। এতে আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে শুরু করে হাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়, যার পরিণতিতে অনেককে প্লাস্টিক সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের টেবিলে যেতে হচ্ছে।
এই মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু জরুরি সতর্কতা মেনে চলা আবশ্যক…
বাইক স্টার্ট বন্ধ রাখুন: চেইন পরিষ্কার করার সময় কোনো অবস্থাতেই বাইকের ইঞ্জিন চালু রাখা বা গিয়ারে রাখা যাবে না। সবসময় ইঞ্জিন পুরোপুরি বন্ধ রেখে ম্যানুয়ালি পেছনের চাকা হাত দিয়ে ঘুরিয়ে চেইন পরিষ্কার করতে হবে।
সঠিক সরঞ্জামের ব্যবহার: বাজারে চেইন পরিষ্কারের জন্য বিশেষ ধরনের ব্রাশ এবং চেইন ক্লিনার স্প্রে পাওয়া যায়। খালি হাতে বা কোনো সুতি কাপড় পেঁচিয়ে ঘুরন্ত চেইনে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
নিরাপত্তা সরঞ্জাম পড়ুন: চেইন ও স্প্রোকেটের কাজ করার সময় হাতে উপযুক্ত সুরক্ষামূলক গ্লাভস ব্যবহার করা ভালো।
দক্ষ মেকানিকের সহায়তা নিন: নিজে চেইন পরিষ্কার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে বা সঠিক সরঞ্জাম না থাকলে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার থেকে এই কাজ করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাইকের ইঞ্জিন কিংবা যন্ত্রাংশ যতই আধুনিক হোক না কেন, আপনার সুস্থতা ও নিরাপদ রাইডিংয়ের চেয়ে দামি কিছু হতে পারে না। একটুখানি সচেতনতা এবং তাড়াহুড়ো করার বদভ্যাস ত্যাগ করলেই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে ও নিজের মূল্যবান অঙ্গকে নিরাপদে রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, অসাবধানতার এক মুহূর্ত সারাজীবনের কান্নার কারণ হতে পারে।