ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দকে পূর্ণতা দিতে এবং সওয়াব অর্জনে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কিছু বিশেষ সুন্নত ও আমল রয়েছে। যা পালন করলে আমাদের ঈদ হবে আরও মহিমান্বিত। নবীজি (সা.)-এর ঈদকেন্দ্রিক ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল নিচে তুলে ধরা হলো:
১. গোসল ও পবিত্রতা অর্জন
ঈদের নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে সুন্দরভাবে মেসওয়াক করা ও গোসল করা সুন্নত। ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন গোসল করতেন। (বুখারি)। এছাড়া সাহাবায়ে কেরামও ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করতেন।
২. সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান
ঈদের দিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সাধ্যের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করা সুন্নত। নবী করিম (সা.)-এর একটি বিশেষ পোশাক ছিল, যা তিনি দুই ঈদ ও জুমার দিনে পরিধান করতেন। (বায়হাকি)।
৩. ঈদগাহে যাওয়ার আগে মিষ্টিমুখ
ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে সামান্য কিছু পানাহার করা সুন্নত। হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেয়ে ঘর থেকে বের হতেন। (বুখারি)।
৪. তাকবির পাঠ করতে করতে যাওয়া
ঈদের দিন ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে যাওয়ার সময় বেশি বেশি তাকবির পাঠ করা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। ঈদুল ফিতরের দিন নিম্নস্বরে এবং ঈদুল আজহার দিন উচ্চৈঃস্বরে তাকবির বলা সুন্নাত। নবীজি (সা.) নামাজ পড়া অবধি এই তাকবির অব্যাহত রাখতেন।
৫. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে গমন
কোনো শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া এবং ফিরে আসা সুন্নত। ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যেতেন এবং পায়ে হেঁটেই ফিরে আসতেন। (তিরমিজি)।
৬. ঈদগাহে যাতায়াতের রাস্তা পরিবর্তন
এটি নবীজি (সা.)-এর অত্যন্ত চমৎকার একটি সুন্নাহ। তিনি ঈদগাহে যাওয়ার সময় যে রাস্তা ব্যবহার করতেন, ফেরার সময় অন্য রাস্তা দিয়ে আসতেন। (বুখারি)। এর ফলে বেশিসংখ্যক মানুষের সাথে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় সম্ভব হয়।
৭. শিশুদের সঙ্গে নেওয়া
ঈদের আনন্দ শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নবীজি (সা.) তাদের সঙ্গে নিতেন। তিনি হযরত হাসান (রা.), হোসাইন (রা.) সহ পরিবারের ছোটোদের নিয়ে উচ্চৈঃস্বরে তাকবির পাঠ করতে করতে ঈদগাহে যেতেন। (বায়হাকি)।
৮. শুভেচ্ছা বিনিময় করা
ঈদের দিন একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নত। সাহাবায়ে কেরাম পরস্পর দেখা হলে বলতেন— ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ (অর্থ: আল্লাহ আমাদের এবং আপনার যাবতীয় নেক কাজ কবুল করুন)।
৯. মনোযোগ সহকারে খুতবা শ্রবণ
ঈদের নামাজ শেষে ইমাম সাহেবের খুতবা শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এটি শোনার ব্যাপারে নবীজি (সা.) কিছুটা শিথিলতা দিয়েছেন, তবে বসে মনোযোগ দিয়ে শোনা অনেক সওয়াবের কাজ।
১০. ফিরে এসে নফল নামাজ আদায়
ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ নেই। তবে ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফেরার পর ঘরে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা সুন্নত। (ইবনে মাজাহ)।