Monday 07 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘বিশ্বমঞ্চে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি’র অনন্য রোল মডেল হবে বাংলাদেশ’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ জুলাই ২০২৬ ২১:৩৩

ঢাকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, সব মন্ত্রণালয় এক হয়ে কাজ করলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ সোসাইটির একটি অনন্য রোল মডেল ও পজেটিভ ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরে শিশুস্বর্গ মডেল বাস্তবায়ন শীর্ষক পাইলট প্রজেক্ট প্রণয়নে অংশীজন পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় ‘শিশুস্বর্গ’ নামক বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও স্পেস গড়ে তোলার সক্ষমতা রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো হবে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল কেন্দ্রবিন্দু। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশাল মাঠকর্মী বাহিনী তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্ত করে প্রাথমিক মেডিকেল অ্যাটেনশন ও থেরাপির মাধ্যমে এই ‘শিশুস্বর্গ’ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক লিঙ্কেজ বা সংযোগ তৈরি করে দেবে। ফলে চিকিৎসার সাথে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের একটি নিখুঁত সমন্বয় ঘটবে।

বিজ্ঞাপন

ড. মুহিত বলেন, দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যাক্তি সরকারি ডেটাবেজের আওতায় থাকলেও প্রকৃত সংখ্যা বিবেচনায় অন্তত ১ কোটি মানুষের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা ও অধিকার পৌঁছে দেওয়ার মেগা টার্গেট নিয়েছে নতুন সরকার। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে সহজ করতে কোনো দয়া বা চ্যারিটি মডেল নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী স্টিয়ারিং কমিটি।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে দুটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টিকে অত্যন্ত হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেন। তিনি পরিষ্কার বলেছেন যে, রাষ্ট্র এদের দয়া করছে এমন পরিবেশ তিনি চান না, বরং অন্য সব নাগরিকের মতো সমঅধিকার যেন তারা উপভোগ করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সভাপতিত্বে গঠিত হয়েছে ‘প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সেবা সুরক্ষা নীতি নির্ধারণ স্টিয়ারিং কমিটি’, যেখানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বিকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া নীতিসমূহ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ‘প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বাস্তবায়ন কমিটি’র সভাপতি করা হয়েছে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে এবং সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। কমিটিগুলো গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম এবং এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় মিটিং সম্পন্ন করে কাজের গতিশীলতা প্রমাণ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের এই সমন্বয়ের ফলে এরইমধ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অর্ধেক ভাড়া বা বিনামূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের নিজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনাকে ‘ডিস্যাবিলিটি ইনক্লুসিভ’ বা প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবাপ্রদান প্রক্রিয়াকে একটি ‘কনভেয়ার বেল্ট’ বা রিলে রেসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, একজন প্রতিবন্ধী শিশু যখন জন্মায়, তখন তার এক ধরণের চিকিৎসা ও থেরাপির প্রয়োজন হয়। ৬ বছর বয়সে তার চাহিদা ভিন্ন হয়, ১২ বছর বয়সে প্রতিবন্ধী কিশোরীর প্রয়োজন আলাদা এবং যৌবনে তার দরকার কর্মসংস্থান। জন্ম থেকে কর্মসংস্থান পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপে রাষ্ট্র তার পাশে থাকবে এবং কনভেয়ার বেল্টের মতো ধাপে ধাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তার চাহিদা পূরণ করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসএস